খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই নভেম্বর ২০২৫, ৬:৪ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি সংবাদকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। গত বুধবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে উদ্দেশ্য করে তাঁর দেওয়া বক্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Table of Contents
প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, এনসিপি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির কাছে ২০টি আসন এবং পরবর্তী মন্ত্রিসভায় অংশ চেয়েছে। এই সংবাদের তীব্র বিরোধিতা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন:
ভিত্তিহীন দাবি: এনসিপি বিএনপির কাছে কোনো আসন বা মন্ত্রিসভার হিস্যা চায়নি। এই খবর সম্পূর্ণ বানোয়াট।
মতিউর রহমানকে চ্যালেঞ্জ: তিনি বলেন, “মতি ভাইকে বলবো, হয় সাংবাদিকতা করেন, নয়তো রাজনীতি করেন। প্রয়োজনে এনসিপি থেকে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।”
সমালোচনা: তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশের সংকটাপন্ন সময়ে প্রথম আলো গঠনমূলক সাংবাদিকতা না করে ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো কাজ করছে।
বৈঠক শেষে বিভিন্ন দলের নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন নিয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। নিচে তাঁদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| নেতা ও দল | মূল বক্তব্য |
| নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (এনসিপি) | বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার থেকে মুখ ঘুরিয়ে এখন প্রার্থী মনোনয়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। |
| আখতার হোসেন (এনসিপি) | সংস্কার বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের। ব্যর্থ হলে সরকার তার জনসমর্থন বা মেন্ডেট হারাবে। |
| রাশেদ খান (গণ অধিকার পরিষদ) | রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকবেই, তবে যত দ্রুত সম্ভব ঐকমত্যে পৌঁছানোই হবে বড় সফলতা। |
| মুজিবুর রহমান মঞ্জু (এবি পার্টি) | আলোচনার চেয়ে এখন কাজ জরুরি। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। |
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মনে করেন, দেশের মানুষ যখন রাষ্ট্র সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে, তখন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি সংস্কার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলো একটি বিষয়ে একমত যে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন কেবল সরকারের পক্ষেই সম্ভব। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকার যদি সংস্কার কাজে গতি আনতে না পারে, তবে তাদের নৈতিক অবস্থানের অবনতি ঘটবে।
মন্তব্য