রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় অনলাইন জুয়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এ অভিযানে চক্রটির আটজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজার এলাকার মাদরাসা মোড় সংলগ্ন একটি বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি ও কৌশলগত প্রস্তুতির পর বাড়িটির ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান চালানো হয় এবং আটজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তারা একটি সুসংগঠিত চক্রের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়, যেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানের ব্যবহারকারীদের যুক্ত করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি গোপন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করত, যাতে তাদের কার্যক্রম সহজে শনাক্ত করা না যায়। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণদের সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে এই অপরাধে যুক্ত করত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, অনলাইনভিত্তিক জুয়া ও ক্যাসিনো এখন একটি নতুন ধরনের অপরাধে পরিণত হয়েছে, যা সমাজে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে এই চক্রগুলো কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
অভিযানে জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একাধিক ল্যাপটপ, মনিটর, কেন্দ্রীয় প্রসেসিং ইউনিট, স্মার্টফোন ও একাধিক সিম কার্ড, যেগুলো ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও যোগাযোগ করা হতো।
জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকা
| ক্রমিক | জব্দকৃত সামগ্রী | পরিমাণ | ব্যবহারের উদ্দেশ্য |
|---|---|---|---|
| ১ | ল্যাপটপ | ১টি | অনলাইন জুয়া পরিচালনা |
| ২ | মনিটর | ২টি | পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ |
| ৩ | কেন্দ্রীয় প্রসেসিং ইউনিট | ১টি | তথ্য ও লেনদেন ব্যবস্থাপনা |
| ৪ | স্মার্টফোন | ১৩টি | যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন |
| ৫ | সিম কার্ড | ২৬টি | বিভিন্ন নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপন |
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব ডিভাইস ব্যবহার করে চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের যুক্ত করত এবং গোপন গোষ্ঠীর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করত। অনেক ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো যাতে সহজে তাদের কার্যক্রম শনাক্ত করা না যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের মূল হোতা এবং সম্ভাব্য বিদেশি সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সাধারণ জনগণকে এ ধরনের অনলাইন অপরাধ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিশেষ করে তরুণদের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
