খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:২০ পিএম

পিরোজপুর সদর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৪৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. হাসান ওরফে মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ আল-আমিন শেখ এবং আলী হোসেন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির উৎস এবং এগুলো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে পিরোজপুর সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।
তিনি জানান, ভোররাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসআই রাধা রমন ভৌমিকের অংশগ্রহণে সদর থানার একটি বিশেষ দল অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানের শুরুতেই সদর উপজেলার কদমতলা বাজার এলাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. হাসান ওরফে মেহেদী হাসান (২৭) এবং মোহাম্মদ আল-আমিন শেখকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, ওই সময় তারা জানতে পারে যে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। এরপর আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে তাৎক্ষণিকভাবে সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে আলী হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৪৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আলী হোসেনকে আটক করা হয় এবং আগেই আটক হওয়া দুই ব্যক্তিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কীভাবে ওই বাড়িতে পৌঁছেছে, কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অতীত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযানে জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য