খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:২৩ পিএম

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী নিখোঁজ থাকা আরও দুই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টাও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় পাঁচজন যুবক একটি এলাকা থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ধাওয়া খাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাকি দুইজনকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোরপূর্বক নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায়। তবে ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় কিংবা তারা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করেন। ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা হামলায় অংশ নিয়েছে এবং স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ গণমাধ্যমকে জানান, তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তিরা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র শাখার সদস্য ছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিহতদের পরিচয় কিংবা হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটে আসছে। এসব সংঘর্ষের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্বাভাবিক চলাচলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষ করে গত কয়েক মাসে পানছড়ি এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপ এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রসিত গ্রুপকে ঘিরে আধিপত্য বিস্তারসংক্রান্ত একাধিক সহিংস ঘটনার খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি, অপহরণ, প্রাণহানি এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি বলে স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন।
সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী অপহৃত দুই ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার পূর্ণ চিত্র উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য