খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৮ পিএম

মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ নিজ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দিয়ে দীর্ঘ ২০ দিন ঘটনাটি গোপন রাখার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড়ির উঠান খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় স্ত্রী জাহেদা বেগমের (২৭) অর্ধগলিত মরদেহ। ঘটনার নৃশংসতা এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রী জাহেদা বেগমের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই বিরোধের জেরে আলমগীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর বিষয়টি আড়াল করতে তিনি নিজের বাড়ির উঠানে একটি গর্ত খুঁড়ে সেখানে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তিনি এমনভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন, যাতে কেউ ঘটনার বিষয়ে সন্দেহ না করে।
ঘটনার ২০ দিন পর সোমবার রাজনগর থানায় গিয়ে আলমগীর একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছেন এবং সম্ভবত গোপনে বিদেশে চলে গেছেন। তবে জিডি করার সময় তার কথাবার্তায় অসংগতি এবং আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। তার বক্তব্যে একাধিক অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় পুলিশ তাকে আরও বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আলমগীর পুলিশের প্রশ্নের মুখে ভেঙে পড়েন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে, পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেছেন এবং মরদেহ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির উঠানের নির্দিষ্ট অংশে খননকাজ চালায়। সেখানে মাটির নিচ থেকে জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতদিন তারা জাহেদার কোনো খোঁজ না পেলেও এমন ভয়াবহ ঘটনার কথা কল্পনাও করেননি। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই থানায় গিয়ে নিখোঁজের অভিযোগ করে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করেছেন—এ বিষয়টিও এলাকাবাসীকে বিস্মিত করেছে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া জানান, উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না কিংবা ঘটনার পর প্রমাণ গোপন করার কাজে কেউ সহায়তা করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, আলামত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য