নেত্রকোনার মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পৃথক তিনটি স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে ঘটনাগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামের রাজীব মিয়া (২৫), কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দেখলেই পশ্চিম পাড়া গ্রামের শামসুল হুদা (৪৯) এবং ডাউকি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে রাজীব মিয়া তাঁর বাড়ির সামনে গণেশের হাওরে মাছ ধরছিলেন। তিনি পেশায় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। ওই সময় এলাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
একই সময়ে কেন্দুয়া উপজেলার কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল হুদা বাড়ির পাশে মুরাইল বিলের দেওয়াল খালে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনিও ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
অন্যদিকে একই উপজেলার ডাউকি গ্রামের আশরাফুল ইসলামও গ্রামের পাশের সান্দিকোনা খালের কাছে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সেখানে বজ্রপাতে তিনি মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এবং সময় অনুযায়ী বোঝা যায়, সকালের দিকের বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতের সময়ই এসব দুর্ঘটনা ঘটে। তিনটি ঘটনার প্রতিটিই মাছ ধরার সময় ঘটে, যা স্থানীয় জলাশয় ও খাল-বিল এলাকায় সকালের নিয়মিত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাগুলোর খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
নিম্নের টেবিলে নিহতদের প্রাথমিক তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| নাম | বয়স | ঠিকানা | পেশা | মৃত্যুর স্থান |
|---|---|---|---|---|
| রাজীব মিয়া | ২৫ | জয়পাশা, কাইটাইল ইউনিয়ন, মদন | ইটভাটা শ্রমিক | গণেশের হাওর |
| শামসুল হুদা | ৪৯ | দেখলেই পশ্চিম পাড়া, মাসকা ইউনিয়ন, কেন্দুয়া | কাপড় ব্যবসায়ী | মুরাইল বিলের দেওয়াল খাল |
| আশরাফুল ইসলাম | উল্লেখ নেই | ডাউকি গ্রাম, কেন্দুয়া | উল্লেখ নেই | সান্দিকোনা খাল |
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলায় বজ্রপাতে মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনা বিভিন্ন সময় ও স্থানে ঘটেছে, বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় ও গ্রামীণ এলাকায় কাজ করার সময়।
এই ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত বর্ষা মৌসুমে বেশি ঘটে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে সতর্কতা জারি করে থাকে। তবে সকালের দিকে মাছ ধরার মতো কাজের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়।