তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়া যুব মহিলা লীগের নেত্রী হিসেবে পরিচিত শিল্পী বেগম অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন। কারা কর্তৃপক্ষ তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ কয়েক দিনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মুক্তি এলাকায় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কারা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরদিন তাকে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। কারা বিধি অনুযায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বুধবার দুপুরে তাকে কারাগার থেকে বের করা হয়।
কারা সূত্রে আরও জানা গেছে, শিল্পী বেগমকে সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতের দিকে তেজগাঁও এলাকার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডে অবস্থিত নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে বলে জানা যায়। গ্রেফতারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তিনি তার দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন, যা মানবিক দিক থেকে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
মুক্তির সময় কারা ফটকে উপস্থিত হয়ে শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে জনসমাগম বা চাপের মাধ্যমে আটক করানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, পুলিশ সরাসরি তাকে আটক করেনি; বরং একটি পক্ষ তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই। জামিন পাওয়ার পর তিনি আদালত ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কারাগারের বাইরে তাকে স্বাগত জানাতে আসা স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা আলমগীর হোসেন জানান, শিল্পী বেগম তাদের এলাকার পরিচিত মুখ এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে এলাকায় নানা মত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সাধারণভাবে বিস্ফোরক আইনের আওতায় থাকা মামলা গুরুতর প্রকৃতির হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের মামলায় জামিন পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে থাকে। তবে আদালত মামলার পরিস্থিতি, প্রাথমিক তদন্তের অগ্রগতি, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন প্রদান করতে পারে।
ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| তারিখ ও সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ২০ এপ্রিল (রাত) | নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার |
| ২১ এপ্রিল (রাত ৮টা) | ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন মঞ্জুর |
| ২১ এপ্রিল (রাত) | দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তানসহ কারাগারে প্রেরণ |
| ২২ এপ্রিল (দুপুর ১২টা) | কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি |
বর্তমানে শিল্পী বেগম জামিনে মুক্ত থাকলেও মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
