আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় নেইমারের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত সংশয় ও শঙ্কা দূর করেছেন দলটির প্রধান প্রশিক্ষক কার্লো আনচেলত্তি। সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, নেইমারের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো অবকাশ নেই। একই সাথে তিনি এটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের পরিবর্তে দলে অন্য কোনো খেলোয়াড়কে বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই।
রিও ডি জেনিরোর প্রস্তুতি শিবির ও নেইমারের বর্তমান অবস্থা
বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে গত ২৭শে মে থেকে জাতীয় দলের নিবিড় অনুশীলন শিবির শুরু হয়েছে। তবে চোটজনিত শারীরিক সমস্যা পুরোপুরি সেরে না ওঠার কারণে এই তারকা ফুটবলার এখনো দলের অন্যান্য সতীর্থদের সাথে মূল মাঠের অনুশীলনে অংশ নিতে পারছেন না। পানামার বিরুদ্ধে আসন্ন প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের চোটের বর্তমান অবস্থা এবং দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন প্রধান প্রশিক্ষক আনচেলত্তি।
৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফুটবলারকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে যুক্ত করার পূর্বেই তাঁর পেশাদার ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর পায়ে একটি ফোলাজনিত সমস্যার বিষয়ে জাতীয় দলের চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেন যে, ফুটবলার নেইমার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন বলে দল আশা প্রকাশ করছে এবং বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বেশ প্রফুল্ল ও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।
চিকিৎসকের প্রতিবেদন ও গ্রুপ পর্বের খেলার সূচি
এর আগে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার নেইমারের চোটের বিষয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হতে নেইমারকে দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হতে পারে। চিকিৎসকের এই আশঙ্কাজনক সময়সীমা সত্যি হলে আগামী ১৩ই জুন মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের যে প্রথম ম্যাচটি রয়েছে, তাতে নেইমারের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে না। তবে প্রধান প্রশিক্ষক আনচেলত্তি অবশ্য মনে করছেন যে, সুস্থ হতে চিকিৎসকের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম সময় লাগতে পারে।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল ‘সি’ গ্রুপে অবস্থান করছে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এবং ম্যাচের সময়সূচির একটি সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিচের সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ম্যাচের ক্রম | প্রতিপক্ষ দেশ | ম্যাচের সুনির্দিষ্ট তারিখ |
| ১ম ম্যাচ | মরক্কো | ১৩ই জুন |
| ২য় ম্যাচ | হাইতি | ১৯শে জুন |
| ৩য় ম্যাচ | স্কটল্যান্ড | ২৪শে জুন |
দল গঠন বিতর্ক ও প্রধান প্রশিক্ষকের ব্যাখ্যা
খেলোয়াড় সুস্থ হওয়া পর্যন্ত দলের সাথেই অবস্থান করবেন এবং যদি তিনি প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে ব্যর্থও হন, তবে দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুত থাকবেন বলে কোচ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চূড়ান্ত দল ঘোষণার পূর্বে আনচেলত্তি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, শারীরিকভাবে শতভাগ সুস্থ নন এমন কোনো খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপে নেওয়া হবে না। তবে নেইমার পুরোপুরি ফিট না হয়েও দলে স্থান পাওয়ায় এবং অন্য কয়েকজন খেলোয়াড় বাদ পড়ায় ব্রাজিলের ফুটবল মহলে একটি প্রকাশ্য বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এবং আত্মপক্ষ সমর্থন করে আনচেলত্তি সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি সম্ভবত তাঁর পূর্বের বক্তব্যটি যথাযথভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেননি। তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন যে, এমন কোনো খেলোয়াড়কেও দলে ডাকা হতে পারে, যিনি দল ঘোষণার সময়ে চোটাক্রান্ত থাকলেও বিশ্বকাপের মূল ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার সময়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে, চোটের তীব্রতার কারণে মিলিতাও, রদ্রিগো এবং এস্তেভাও বিশ্বকাপের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরোপুরি ফিট বা সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন না বলেই তাদেরকে দলের বাইরে রাখতে হয়েছে। তবে নেইমারের ক্ষেত্রে দ্রুত সুস্থ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় তাঁর কোনো বিকল্প দলে নেওয়া হবে না।
