নীলফামারীতে ট্রাক-ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জনের মৃত্যু

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় একটি মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী ভ্যানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে ডোমার-দেবীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনারায় বাজার নামক স্থানে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিবরণ

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে একজন হলেন ভ্যানচালক মমিনুল ইসলাম (৩৮)। তিনি ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সবুজপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। অন্য নিহত ব্যক্তি হলেন পঁচিশ বছর বয়সী পথচারী বিকাশ চন্দ্র। তিনি মাহিগঞ্জ এলাকার অকীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে।

পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ অভিমুখ থেকে নীলফামারী জেলার দিকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক আসছিল। ডোমার-দেবীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনারায় বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানের সঙ্গে ট্রাকটির সরাসরি ও মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক মমিনুল ইসলাম গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

পরবর্তী পরিস্থিতি ও উদ্ধার অভিযান

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভ্যানটির সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষের পর ঘাতক ট্রাকটির চালক যানটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় অনিয়ন্ত্রিত ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী বিকাশ চন্দ্রকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের সরাসরি ধাক্কায় বিকাশ চন্দ্র ছিটকে পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ও আশঙ্কাজনক জডিত আঘাত পান।

দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত সোনারায় বাজার এলাকায় পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পথচারী বিকাশ চন্দ্রকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন।

পুলিশি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

সড়ক দুর্ঘটনার এই সংবাদটি পাওয়া মাত্রই ডোমার থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশি তৎপরতার কারণে মহাসড়কে বড় ধরনের কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি এবং দুর্ঘটনার পরও ডোমার-দেবীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সচল রাখা সম্ভব হয়।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে ডোমার থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হবে।