মায়ের স্নেহের নেই কোনো তুলনা

মা মানুষের জীবনে সবচেয়ে নির্ভরতার নাম। পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের জীবনে এই অনুভূতি আরও গভীরভাবে ধরা পড়ে। বিশেষ করে উৎসব, অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক মুহূর্তগুলোতে মায়ের অনুপস্থিতি নতুনভাবে অনুভূত হয়। প্রবাসজীবনের বাস্তবতায় মা, মাটি ও দেশের প্রতি আবেগ আরও প্রবল হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান।

তিনি বলেন, মানুষ যখন কোনো সংকটে পড়ে, তখন সবচেয়ে বেশি ব্যথিত হন মা। সন্তানের কষ্টে তাঁর নাওয়া-খাওয়া ও ঘুম পর্যন্ত হারাম হয়ে যায়। প্রবাসে অবস্থান করার পর তিনি নিজের মা-বাবাকে গভীরভাবে অনুভব করতে শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অনুভূতি কয়েকটি বাক্যে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে প্রথম ঈদ উদ্‌যাপনের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত ভিন্ন। বাংলাদেশে ঈদের সকাল শুরু হতো মায়ের ডাকে। এরপর বাবার সঙ্গে ঈদগাহে নামাজ, দাদির কবর জিয়ারত এবং বাড়ি ফিরে মায়ের স্নেহমাখা আলিঙ্গন—সবকিছু মিলিয়ে ঈদের দিনটি ছিল পরিপূর্ণ পারিবারিক আবহে ঘেরা। কিন্তু লন্ডনে প্রথম ঈদের সকালে সেই পরিচিত পরিবেশের অনুপস্থিতি তাঁকে শূন্যতায় আচ্ছন্ন করে তোলে।

ঈদের সকালে পাঞ্জাবি পরে তিনি মাকে ফোন করেন এবং বাবাকেও ঈদের সালাম জানান। তখন বাংলাদেশে বিকেল। মায়ের সঙ্গে কথা বলেই তিনি মানসিক শান্তি খুঁজে পান। তাঁর মতে, এভাবেই বছরের পর বছর অসংখ্য প্রবাসী আপনজনদের ছাড়া ঈদ উদ্‌যাপন করে থাকেন।

প্রবাসজীবনে অসুস্থতার সময়ও মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। নিজের কিংবা মেয়ের অসুস্থতার সময় মুঠোফোনে ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন। মা কোরআনের বিভিন্ন সূরা পাঠ করে দোয়া করতেন এবং এতে মানসিক শক্তি ও প্রশান্তি পাওয়া যেত বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁরা লন্ডনের চিকিৎসকদের পরামর্শও গ্রহণ করতেন। তবে চিকিৎসার পাশাপাশি মায়ের কাছ থেকে পাওয়া মানসিক সান্ত্বনাকে তিনি অমূল্য বলে উল্লেখ করেন।

বর্তমানে তাঁর মা মারা যাওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পার হয়েছে। ফলে ঈদের দিনে আর কখনো মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলা সম্ভব হবে না—এই বাস্তবতা তাঁকে এখনো নাড়া দেয়। তিনি বলেন, যাঁদের মা জীবিত আছেন, তাঁদের উচিত সুযোগ থাকতেই মায়ের সঙ্গে কথা বলা এবং সময় কাটানো।

নিবন্ধে তিনি মায়েদের জন্য দোয়ার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, মায়ের শূন্যস্থান কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর মতে, মায়ের একটি কথাতেই মানুষ পাহাড়সম শান্তি খুঁজে পায়।

লেখক পরিচিতি

বিষয়তথ্য
লেখকমুহাম্মদ শাহেদ রাহমান
কর্মস্থলকুইনমেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন
দায়িত্বসভাপতি (২০২৫-২০২৬), ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি
অবস্থানলন্ডন, যুক্তরাজ্য