খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জানুয়ারি ২০২৬, ৬:২৭ এএম

নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন নিজের একজন সক্রিয় কর্মী ও জিয়া পরিষদের স্থানীয় নেতা নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হওয়ার পর চরম নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের কাছে সুরক্ষা চেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীনের কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। তবে আবেদনের প্রায় ২০ ঘণ্টা পার হলেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস বা নিরাপত্তা প্রহরী না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই প্রার্থী।
Table of Contents
নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের নেপথ্যে রয়েছে গত বুধবার রাতের এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া কদমতলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে গলা কেটে হত্যা করে। নিহত রেজাউল করিম আসন্ন নির্বাচনে আনোয়ার হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অদ্যবধি কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় এবং প্রচারণার স্বার্থে দুর্গম এলাকায় প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হওয়ায় আনোয়ার হোসেন নিজের জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সিংড়া আসনের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তথ্য:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান অবস্থা |
| আসন ও এলাকা | নাটোর-৩ (সিংড়া), নাটোর জেলা। |
| নিহত ব্যক্তি | রেজাউল করিম, স্থানীয় নেতা, জিয়া পরিষদ। |
| ঘটনার ধরণ | ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা। |
| নিরাপত্তা আবেদনকারী | আনোয়ার হোসেন (বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী)। |
| আবেদনের তারিখ | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা)। |
| প্রশাসনের পদক্ষেপ | আবেদনটি পুলিশ সুপারের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। |
| পুলিশের অবস্থান | সভা-সমাবেশে নজরদারি বৃদ্ধি ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন। |
বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার একজন প্রধান কর্মীকে হত্যার পর আমি আক্ষরিক অর্থেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে প্রতিনিয়ত গ্রাম-গঞ্জে ভোট চাইতে যেতে হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।” জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীর আবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করে দেখছেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইফতে খায়ের আলম এ বিষয়ে জানান যে, সিংড়া উপজেলার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। প্রার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং তিনি যেখানেই গণসংযোগ বা পথসভা করছেন, সেখানে সাধারণ পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি টহল পুলিশ নজরদারি রাখছে। তবে সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরী বা ‘গানম্যান’ প্রদান করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান শর্ত হলো প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। সিংড়ার এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন কর্মীর মৃত্যু নয়, বরং নির্বাচনী ময়দানে সাধারণ ভোটার ও কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সঞ্চার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হলে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার এবং প্রার্থীর আস্থা অর্জনে প্রশাসনের আরও দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
মন্তব্য