রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকা একটি গভীর গর্তে পড়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশু সানভীর মোল্লার করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
নিহত সানভীর মোল্লা দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধাপাড়ার ফারুক মোল্লার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে তার মা সুমী খাতুন সন্তানকে নিয়ে পাশের সৈদালপাড়া এলাকায় নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ঘটনার দিন দুপুরের পর থেকে শিশুটি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে খেলাধুলা করছিল।
শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে সানভীর পানি খেতে চাইলে তিনি পানি আনতে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন শিশুটি ঘরে নেই। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির কাছাকাছি মরা পদ্মা নদীর পাড় সংলগ্ন একটি পানিভর্তি গভীর গর্তে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিত্যক্ত গর্ত ছিল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে ভরে ছোট জলাশয়ের মতো হয়ে ওঠে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—
বিষয়
তথ্য
শিশুর নাম
সানভীর মোল্লা
বয়স
৫ বছর
এলাকা
দৌলতদিয়া, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী
ঘটনার স্থান
মরা পদ্মা নদীর পাড় সংলগ্ন পানিভর্তি গর্ত
সময়
বুধবার দুপুরের পর নিখোঁজ, বিকেলে উদ্ধার
মৃত্যুর কারণ
পানিতে পড়ে অচেতন হয়ে মৃত্যু (প্রাথমিক ধারণা)
উদ্ধারকারী
স্থানীয় বাসিন্দারা
চিকিৎসা স্থান
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
গোয়ালন্দ ঘাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জানান, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের আবেদন করা হয়। পরে বুধবার রাত আটটার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে এ দুর্ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের খোলা গর্তগুলো দ্রুত ভরাট বা চারপাশে সুরক্ষাবেষ্টনী দেওয়া জরুরি। না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক শোকের পরিবেশ।
মন্তব্য