খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম

বাংলাদেশের তরুণ গায়ক, সুরকার ও গীতিকার জাহিদ অন্তু নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। রাজধানীর গুলশানে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার হন তিনি। গ্রেফতারের পরের দিন, ২ এপ্রিল, ঢাকার একটি আদালত তাকে জামিন দেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই শিল্পী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে নিজের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “বিচক্ষণ ব্যক্তি একপক্ষের কথা শুনে মন্তব্য করে না। আইন বিচার করবে। দোষ করলে আমার ফাঁসি হোক। এভাবে হাসতে হাসতে মেনে নেব। বিচারের মালিক আল্লাহ।” এই পোস্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে, জাহিদ নিজের প্রতি দায়বদ্ধতা স্বীকার করেছেন এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার ক্লাস চলাকালীন জাহিদের সঙ্গে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যে সম্পর্ক শেষ হয় এবং তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এরপর ২৭ মার্চ, জাহিদ ওই শিক্ষার্থীকে একটি পণ্যের ফটোশুটের অজুহাতে তার গুলশানের বাসায় আমন্ত্রণ জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে মারধর করা হয়। শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও মাথায় আঘাত লাগে।
পরবর্তীতে তিনি কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম জাহিদ অন্তুকে এই মামলায় ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৭ মার্চ ২০২৬ | অভিযুক্ত জাহিদ অন্তু শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে যৌন নিপীড়ন |
| ৩০ মার্চ ২০২৬ | শিক্ষার্থী মামলা দায়ের |
| ২ এপ্রিল ২০২৬ | জাহিদ গ্রেফতার ও জামিন |
| ৭ এপ্রিল ২০২৬ | ফেসবুকে জাহিদের পোস্ট প্রকাশ |
| ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ |
জাহিদ অন্তু কলকাতার পিবি একাডেমিক স্কুল ভেন্যুতে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ এর বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গাওয়া গান ও ভিডিওর মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পরিচিত।
এই ঘটনা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে আইনের শাসন ও নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নে জনমত তৈরি হচ্ছে। জাহিদ অন্তু নিজেও তার পোস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, দোষী প্রমাণিত হলে তিনি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
মোটকথা, এই মামলা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং আইন, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন।
মন্তব্য