দেড় বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা

রংপুরের সাজাপুর এলাকায় এক দুঃখজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার, ১৪ মার্চ সন্ধ্যায়, ১.৫ বছরের শিশু জয়দেব ঘোষকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং এরপর তার মা, ৪০ বছর বয়সী সূচনা ঘোষ, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনা ঘটে পরিবারের নিজস্ব বাড়িতে, নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ডে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সূচনা ঘোষ প্রথমে তার শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তিনি নিজে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তার দশম শ্রেণির মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ, যিনি জানালার ফাঁক দিয়ে মরদেহ দেখতে পান। দ্রুত পুলিশকে জানানো হয় এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পরিবারের তথ্য ও ঘটনার প্রেক্ষাপট

নামবয়সপেশা ও অবস্থাঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
সূচনা ঘোষ৪০গৃহিনী, মানসিকভাবে অসুস্থশিশুকে হত্যা করে আত্মহত্যা
জয়দেব ঘোষ১.৫শিশুমা দ্বারা শ্বাসরোধে নিহত
শংকর ঘোষ৪৫মুদি দোকানদার, শারীরিক প্রতিবন্ধীস্ত্রী ও সন্তান হারানোর শোকে
পুষ্পিতা ঘোষ১৬শিক্ষার্থীজানালার ফাঁক দিয়ে প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী

শংকর ঘোষ জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরও পূর্ণ সুস্থতা আসেনি। তিনি মনে করেন, মানসিক সমস্যার প্রভাবে তার স্ত্রী এই ভয়াবহ কাজটি করেছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, “পরিবারে অভাব-অনটন এবং পারিবারিক অশান্তি ছিল। তবে এই হত্যাকাণ্ড মূলত মানসিক অসুস্থতার প্রভাবে হয়েছে কিনা, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।” তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ প্রতিবেশী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারের সহায়তা ও সমাজের মনোযোগ অপরিহার্য, যাতে এমন চরম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এই ঘটনা রংপুর শহরবাসীর জন্য একটি বড় শোকে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।