খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই নভেম্বর ২০২৫, ১:২১ এএম

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান হঠাৎ করে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে দিল্লি সফরে গিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরামর্শদাতাদের সম্মেলনে যোগ দিতে গেলেও, সফরের সময় পরিবর্তনকে অনেকেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত হিসেবে দেখছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, ভারত সরকারকে ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অনুরোধ পাঠানো হচ্ছে। রায় ঘোষণার পর দেশের কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়লেও ভারত এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সংযত ও সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে—যা বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ড. খলিলের এই সফরের কেন্দ্রে রয়েছে ২০ নভেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ, যেখানে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস ও সেশেলসের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা এজেন্ডায় থাকলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ইস্যু।
সফরের আগে বুধবার ভারতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ড. খলিলের আলোচনাকে বিশ্লেষকেরা অঞ্চলগত নিরাপত্তার চেয়ে বেশি দেখছেন—এটি হতে পারে দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃসংজ্ঞায়নের সূচনা। বিশেষত ২০২৩ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন, তাঁর ভারতে আশ্রয় গ্রহণ, এবং পরবর্তী মাসগুলোতে নিউ ইয়র্ক, ঢাকা ও ব্যাংককে দুই দেশের প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক বৈঠক—সবকিছু বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
১৫ মাস আগে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে ড. খলিলের এটাই প্রথম দিল্লি সফর। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের আলোচনায় প্রত্যর্পণ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পারস্পরিক আস্থার কাঠামো—সবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আসতে পারে।
যদিও ভারত এখনও কোনো কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেনি, তবে তাদের পরিমিত প্রতিক্রিয়া এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। ড. খলিল ও অজিত দোভালের বৈঠকের ফল দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য