মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচের বৃষ্টিবিরতি চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং আগামী জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য একমাত্র টেস্ট ম্যাচের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এক সংবাদ সম্মেলনে এই স্কোয়াড দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। ঘোষিত দল দুটিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে তরুণ ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়ের লাল বলের ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্তি এবং টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব লাভ অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন পেসার রবিউল হক।
Table of Contents
তাওহিদ হৃদয়ের টেস্ট অন্তর্ভুক্তি ও প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা
তাওহিদ হৃদয় এর আগেও একবার লাল বলের ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ দলে ডাক পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের ইনজুরির (চোট) কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পেলেও এখনো তার আন্তর্জাতিক টেস্ট অভিষেক ঘটেনি। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হৃদয়ের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। তিনি এ পর্যন্ত ১৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং ২৩টি ইনিংসে ব্যাটিং করে ৩টি সেঞ্চুরিসহ ৪৪.৬৮ গড়ে সর্বমোট ৯৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন।
তাকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক ক্রিকেট কৌশলের অংশ হিসেবেই হৃদয়কে বেছে নেওয়া হয়েছে। হাবিবুল বাশার বলেন, “সে তো সাদা বলে নিয়মিতই খেলে। আমরা টেস্ট ম্যাচেও যে ধরনের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাই… আপনি দেখেন সম্প্রতি আমরা কিন্তু আলাদা ধরনের খেলা খেলছি। আমার মনে হয় সে এখানে একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তার রেকর্ড খারাপ না। যখন ব্যাটিং করে, তখন কিন্তু ওই জায়গাটাতে খুব ইমপ্যাক্টফুল (প্রভাবশালী) ইনিংস খেলতে পারে।”
নতুন মুখ রবিউল হক ও অন্যান্য পরিবর্তন
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে রংপুর বিভাগের ডানহাতি পেসার রবিউল হক প্রথমবারের মতো জাতীয় টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচেও তিনি ৫ উইকেট শিকারের কৃতি দেখিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) গত মৌসুমে রংপুর বিভাগকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে তার বড় অবদান ছিল, যেখানে তিনি মাত্র ৯ ইনিংসে ১৯ গড়ে ২২টি উইকেট নেন। সামগ্রিকভাবে ৩২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে রবিউল হকের ঝুলিতে রয়েছে ১০৭টি উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো সেঞ্চুরি না থাকলেও তার দুটি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে এবং তাকে মূলত একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
টেস্ট দলের পেস আক্রমণে ভারসাম্য আনতে ফেরানো হয়েছে হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদকে। অন্যদিকে তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলাম এবং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে এই ম্যাচ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। মিরাজ নিজেই নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়া সাদমান ইসলাম দলে ফেরায় বাদ পড়েছেন ওপেনার জাকির হাসান।
টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ও নেতৃত্বের পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘোষিত টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাওহিদ হৃদয়কে। পূর্ববর্তী সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসান নিজে থেকেই নির্বাচকদের জানিয়েছেন যে, নেতৃত্বের অতিরিক্ত চাপ সরিয়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে চান।
এই টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দ্রুতগতির পেসার নাহিদ রানাকে। তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে বিশ্রামে থাকায় তাকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রধান নির্বাচক স্পষ্ট করেন। ইনজুরির (চোট) কারণে সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া রিপন মণ্ডল ও তানজিম হাসান এবারও দলের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া অফ-ফর্মের কারণে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দলে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ।
ঘোষিত উভয় দলের খেলোয়াড় তালিকা ও পরিবর্তনসমূহ
অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য ঘোষিত দুটি দলের খেলোয়াড় তালিকা এবং দলীয় পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| দল ও ক্যাটাগরি | খেলোয়াড়দের তালিকা এবং দলীয় রদবদল |
| অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল | লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা এবং আবদুল গাফফার। |
| টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা খেলোয়াড় | মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ। |
| টি-টোয়েন্টি দল থেকে ইনজুরি ও বাদ | চোট: রিপন মণ্ডল, তানজিম হাসান। দল থেকে বাদ: মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। |
| জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দল | নাজমুল হোসেন, সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, তাওহিদ হৃদয়, অমিত হাসান, রবিউল হক। |
| টেস্ট দলের নতুন মুখ | তাওহিদ হৃদয়, রবিউল হক। |
| টেস্ট দলে ফেরা খেলোয়াড় | খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সাদমান ইসলাম। |
| টেস্ট দল থেকে বিশ্রাম ও বাদ | বিশ্রাম: নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, শরীফুল ইসলাম। দল থেকে বাদ: জাকির হাসান। |
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই নতুন দলবদল ও নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে দলের আক্রমণাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
