খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম

ঢাকা-৮ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়ে নতুনভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভোট কারচুপি, প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন আসনটির বিজয়ী প্রার্থী মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত রাখার জন্য।
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, এনসিপির নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম এই লিখিত আবেদনটি নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনের মোট ১২টি কেন্দ্রে নির্বাচনি অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য ১১ দফায় উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্য, নেতা-কর্মী এবং নির্বাচনী এজেন্টরা ভোটের প্রক্রিয়ায় অবৈধ প্রভাব বিস্তার করেছেন।
পাটওয়ারীর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:
বাতিলকৃত ভোট গণনাভুক্ত করা
ভোটের ফলাফল হঠাৎ আটকানো
প্রিজাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারের সম্পৃক্ততা
কেন্দ্রগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অসংগত আচরণ
এই অনিয়মের ফলে নাসীরুদ্দীন দাবি করছেন যে, মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে যা প্রযোজ্য আইন ও বিধি লঙ্ঘন করেছে। তিনি কমিশনকে সতর্ক করে বলেন, বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ঢাকা-৮ আসনের ভোটের ফলাফল নিম্নরূপ:
| প্রার্থী নাম | দল / প্রতীক | প্রাপ্ত ভোট |
|---|---|---|
| মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ | বিএনপি / ধানের শীষ | 57,092 |
| নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | এনসিপি / শাপলা কলি | 51,396 |
ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা যায়, মির্জা আব্বাস নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৫,৬৯৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবেদন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, প্রার্থী ও দলগুলোর অভিযোগের যথাযথ যাচাই ও নজরদারি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন আবেদনটি যাচাই প্রক্রিয়ায় রেখেছে। কমিশন আইনের সাপেক্ষে প্রমাণাদি যাচাই করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে অনিয়ম কমাতে সহায়ক হবে।
এ ঘটনায় ঢাকা-৮ আসনের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, যেখানে রাজনৈতিক দলের বৈধতার দাবি ও কমিশনের দায়িত্বশীলতা উভয়ই পরীক্ষা হবে।
মন্তব্য