খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

টানা ভারী বর্ষণ আর তীব্র জলাবদ্ধতার মধ্যেই উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার মাঝে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে এবং বেশ কিছু দাবিতে সকাল থেকেই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পরীক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। আকস্মিক এই সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ। ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা বিবেচনা না করেই খামখেয়ালিভাবে পরীক্ষা নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে ঢাকার বেশির ভাগ নিচু এলাকা এবং প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এই অবস্থায় গণপরিবহন সংকট এবং হাঁটু সমান নোংরা পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক পরীক্ষার্থী কাকভেজা হয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন, আবার অনেকের প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বিঘ্নিত এই যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতেও পারেননি, যা তাদের শিক্ষাজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের তালিকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বন্যা ও জলাবদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সুবিধাজনক সময়ে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী মানুষ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় আটকে থাকে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অটল রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেশনজট এড়ানোর যুক্তি দেওয়া হলেও, জননিরাপত্তা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ। দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে তারা অবিবেচকের মতো কাজ বলে অভিহিত করেছেন।
মন্তব্য