খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত আড়াই মাসে প্রায় ৩৩ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সময়ে নিয়মিত অভিযান এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আরও প্রায় ৮৪ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে মোট ৩২ হাজার ৯০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময় নিয়মিত অভিযান এবং বিভিন্ন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আটক হয়েছেন আরও ৮৩ হাজার ৮১৭ জন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ধারাবাহিকভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি ককটেল, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বাজি জব্দ করা হয়েছে। এসব জব্দকৃত সামগ্রী বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারত বলে ধারণা করছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি উদ্ধার হয়েছে ৭৬টি পিস্তল। এছাড়া রয়েছে ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটারগান, ১৮টি রিভলভার, ১৫টি পাইপগান, ১২টি এয়ারগান, ৪টি শটগান, ২টি রাইফেল, ২টি সাবমেশিনগান (এসএমজি) এবং একটি পেনগান। পুলিশের মতে, এসব অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় সম্ভাব্য সহিংস অপরাধের ঝুঁকি কমেছে এবং অপরাধচক্রের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছে পুলিশ। এই সময়ে ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬ পিস ইয়াবা, ৮ হাজার ২৮৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশি মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ পুরিয়া গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, মাদক সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
| অভিযানের প্রধান পরিসংখ্যান | সংখ্যা |
|---|---|
| বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার | ৩২,৯০৮ জন |
| নিয়মিত অভিযান ও অন্যান্য মামলায় আটক | ৮৩,৮১৭ জন |
| উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র | ২৪৩টি |
| উদ্ধার হওয়া গুলি ও কার্তুজ | ২,৩১৩ রাউন্ড |
| উদ্ধার হওয়া ম্যাগাজিন | ৮৮টি |
| উদ্ধার হওয়া দেশীয় অস্ত্র | ৫০৩টি |
| উদ্ধার হওয়া ককটেল | ৪৩টি |
| উদ্ধার হওয়া ইয়াবা | ৭৬,৪০,২৭৬ পিস |
| মাদকসংক্রান্ত মামলা | ১৪,১৫৭টি |
| মাদক মামলায় গ্রেপ্তার | ২০,৪৩৯ জন |
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযান কেবল অপরাধী গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক পাচার ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রমও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ, বিশেষায়িত ইউনিট এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অপরাধ দমনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জনমনে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভবিষ্যতেও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
মন্তব্য