নগরবাউল জেমস তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সংগীত প্রযোজক ফারুক কবির বাদলকে স্মরণ করে গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাদল কেবল একজন সহকর্মী ছিলেন না, বরং তাঁর জীবনের পরিবারেরই একজন সদস্যের মতো ছিলেন। সম্প্রতি একটি ফোনকলের মাধ্যমে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জেমস আবেগে ভেঙে পড়েন এবং তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্কের নানা অজানা দিক তুলে ধরেন।
জানা যায়, গত দুই মে ফারুক কবির বাদলের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর প্রায় তিন বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পরও তিনি অনেকের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ রাখতেন এবং শেষ সময়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে একা বসবাস করতেন।
সংগীত জগতে জেমস ও বাদলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে নব্বইয়ের দশকে। সারগাম স্টুডিওকে কেন্দ্র করে তাঁদের পেশাগত যাত্রা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে গভীর বন্ধুত্বে রূপ নেয়। সেই সময় এই স্টুডিও থেকেই জেমসের একক সংগীতযাত্রা ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেতে শুরু করে।
জেমসের প্রথম একক সংগীত সংকলন প্রকাশ পায় উনিশশ ঊননব্বই সালে, এরপর উনিশশ তিরানব্বই সালে তাঁর দ্বিতীয় সংগীত সংকলন প্রকাশিত হয়। এই দুটি সংকলন তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয় এবং বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক সাফল্য এনে দেয়। তবে জেমসের মতে, এই সাফল্যের চেয়েও বড় ছিল বাদলের সঙ্গে তাঁর মানবিক ও আন্তরিক সম্পর্ক।
তিনি জানান, তাঁদের সম্পর্ক ছিল শুধুই পেশাগত নয়; সেখানে ছিল আড্ডা, গল্প, অভিমান এবং নির্ভরতার এক গভীর বন্ধন। সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু বদলালেও তাঁদের সম্পর্ক একইভাবে অটুট ছিল।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর সংগীত শিল্পের পরিবর্তনের কারণে বাদল ধীরে ধীরে প্রযোজনার মূলধারা থেকে সরে যান এবং একপর্যায়ে বিদেশে চলে যান। দীর্ঘ প্রায় সাতাশ বছর পর দেশে ফিরে এলেও তিনি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না।
দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আকস্মিক এক ঘটনার মাধ্যমে তাঁদের পুনরায় যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। গত বছরের পনেরো আগস্ট গীতিকার বাপ্পী খানের সঙ্গে বাদলের দেখা হয় ঢাকার উত্তরাঞ্চলে এক পারিবারিক প্রয়োজনে। প্রথমে তাঁকে চিনতে না পারলেও পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বাপ্পী খান আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেমস তা দেখে বাদলের খোঁজ পান। তখন তিনি বিদেশে অবস্থান করছিলেন। পরে বাপ্পী খানের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে জেমস ফোনে বাদলের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রায় দশ মিনিটের সেই কথোপকথনে তাঁরা দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে হাসি, স্মৃতি এবং পুরনো দিনের নানা ঘটনা ভাগ করে নেন। জেমস জানান, সেই মুহূর্তটি তাঁর জীবনের একটি বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
নীচে বাদলের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা উপস্থাপন করা হলো—
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| উনিশশ ঊননব্বই | প্রথম একক সংগীত সংকলন প্রকাশ |
| উনিশশ তিরানব্বই | দ্বিতীয় সংগীত সংকলন প্রকাশ |
| পনেরো আগস্ট (গত বছর) | দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় সাক্ষাৎ |
| আটাশ এপ্রিল | শেষবার জীবিত দেখা যায় |
| দুই মে | মৃত্যুর পর মরদেহ উদ্ধার |
| তিন মে | দাফন সম্পন্ন |
বাদলের মৃত্যুর সংবাদ জেমসকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি মনে করেন, বাদল শুধু একজন বন্ধু নন, বরং তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। সংগীত অঙ্গনেও তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যা সহকর্মীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।
