খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৬ এএম

বীমা খাতের ওপর গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সেবার মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। নোয়াখালীর বসুরহাট শাখায় একজন গ্রাহকের মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বা এক কর্মদিবসের ব্যবধানে মৃত্যুদাবির অর্থ পরিশোধ করে কোম্পানিটি তাদের পেশাদারিত্ব ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রমাণ দিয়েছে। সাধারণত বীমা দাবি আদায়ে গ্রাহকদের দীর্ঘসূত্রতার যে অভিজ্ঞতা থাকে, জেনিথ ইসলামী লাইফের এই পদক্ষেপ সেই ধারণা পাল্টে দিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Table of Contents
নোয়াখালীর বসুরহাট শাখার গ্রাহক মরহুমা রেশমা আক্তার জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের একটি বীমা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, মাত্র ২ হাজার টাকার একটি কিস্তি পরিশোধ করার পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বীমা আইন ও কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, পলিসি সচল থাকা অবস্থায় গ্রাহকের মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত উত্তরাধিকারী বা নমিনী বীমা দাবির অর্থ পাওয়ার অধিকারী হন।
মরহুমা রেশমা আক্তারের নমিনী মাসুম মিয়া প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পর, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তা যাচাই-বাছাই করে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাত্র এক দিনের মাথায় ৯৯ হাজার ৪৫০ টাকার একটি চেক প্রস্তুত করা হয় এবং তা নমিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
| তথ্যের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| বীমা কোম্পানির নাম | জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি |
| শাখার নাম | বসুরহাট শাখা, নোয়াখালী |
| গ্রাহকের নাম | মরহুমা রেশমা আক্তার |
| পরিশোধিত কিস্তির সংখ্যা | ০১টি (মাত্র ২,০০০ টাকা) |
| মৃত্যুদাবির পরিমাণ | ৯৯,৪৫০ টাকা |
| নিষ্পত্তির সময়কাল | মাত্র ০১ কর্মদিবস |
এই দ্রুততম দাবি পরিশোধ উপলক্ষে বসুরহাট শাখা কার্যালয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মো. আরিফ হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ অপারেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুরুল ইসলাম এবং বসুরহাট শাখার ইনচার্জ ও সেলস ম্যানেজার আবুল মোবারক হৃদয়সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মো. আরিফ হোসেন বলেন, “জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকদের আমানত ও আস্থার মর্যাদা দিতে বদ্ধপরিকর। আমরা বিশ্বাস করি, বীমা শিল্পে টিকে থাকতে হলে দ্রুত দাবি পরিশোধের কোনো বিকল্প নেই। রেশমা আক্তারের পরিবারকে এই সংকটের সময়ে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।”
অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা মনে করেন বীমার টাকা পাওয়া অত্যন্ত জটিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে জেনিথ ইসলামী লাইফ কত দ্রুত সেবা দিতে পারে, আজকের এই ঘটনা তার প্রমাণ। অনুষ্ঠানে ২৫০ জনেরও বেশি সিনিয়র উন্নয়ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই দ্রুত সেবাকে মাঠ পর্যায়ে প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বীমার আওতায় আনতে উদ্বুদ্ধ করবেন বলে জানান।
জেনিথ ইসলামী লাইফের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। কোম্পানিটি আধুনিক প্রযুক্তি ও শরীয়াহ ভিত্তিক বীমা ব্যবস্থার সমন্বয়ে গ্রাহকসেবা প্রদান করছে। দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির এই ধারা বজায় থাকলে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা পলিসি গ্রহণের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান আরও শক্তিশালী হবে।
মন্তব্য