খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম

টানা তিন ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে ভাসছে পুরো কুমিল্লা নগরী। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি—সবখানেই এখন থইথই করছে কোমরসমান পানি। এমন এক চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। নোংরা ও দূষিত পানি মাড়িয়ে, এক প্রকার সাঁতরে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ১ হাজার ২০৯ জন ছাত্রীকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে সেই অবর্ণনীয় কষ্টের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের। পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত ওই পরীক্ষাকেন্দ্রটিই পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কেন্দ্র স্থানান্তরের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্ষার এই মৌসুমে যেকোনো সময় আবারও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। যেহেতু এই কেন্দ্রের জলাবদ্ধতা সহজে কাটে না, তাই পরীক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির কথা বিবেচনা করে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই (বুধবার) থেকে শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী সব পরীক্ষা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের পরিবর্তে নগরের ছাতিপট্টি এলাকায় অবস্থিত অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
একটি সচল কেন্দ্রের বিশাল পরীক্ষার্থী বহরকে হঠাৎ অন্য কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ায় আসন বা ব্যবস্থাপনা সংকট তৈরি হবে কি না—এমন আশঙ্কার জবাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, “অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে এমনিতেও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পরীক্ষার্থী বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। ফলে নতুন করে এই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা যুক্ত হলেও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না।”
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার সকাল ছয়টা থেকে নয়টা—এই মাত্র তিন ঘণ্টাতেই কুমিল্লা নগরে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তবে সবচেয়ে বিপৎসংকুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল মহিলা কলেজ রোড ও কলেজ প্রাঙ্গণে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পোশাক, কলম ও প্রবেশপত্র ভিজে একাকার হয়ে যায়।
পরীক্ষার্থীদের এমন করুণ দশা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার হাত বাড়ায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি প্লাস্টিকের নৌকা ও ভ্যানের ব্যবস্থা করে পরীক্ষার্থীদের মূল ভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের যে শারীরিক ও মানসিক ধকল পোহাতে হয়েছে, তা পরীক্ষার হলের মনোযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা বোর্ডের এই দ্রুত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, নোংরা পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা দেওয়া শুধু কষ্টকরই নয়, বরং তা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়। নতুন কেন্দ্রে অন্তত শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারবে, এটাই এখন স্বস্তির বিষয়।
মন্তব্য