ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্তকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর হালুয়াঘাট উপজেলার মোকামিয়া গ্রামে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। সেই সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের এক পর্যায়ে হবিবুর রহমান গুরুতরভাবে আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর নিহতের ভাগনি মোছা. নুরুন্নাহার বাদী হয়ে ১৬ অক্টোবর হালুয়াঘাট থানায় ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে মামলাটি দীর্ঘ সময় বিচারাধীন থাকে।
বিচার চলাকালে আদালত মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন আলামত ও জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে রায় প্রদান করেন। রায়ে ২৫ জন আসামির মধ্যে ২০ জনকে খালাস দেওয়া হয় এবং বাকি পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় ও শাস্তির সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
| নাম | বয়স | গ্রাম | দণ্ড |
|---|
| শুক্কুর আলী | ৫৪ বছর | মোকামিয়া | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| আমির আলী | ৪৩ বছর | মোকামিয়া | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| জমির আলী | ৪১ বছর | মোকামিয়া | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| হাতেম আলী | ৩৯ বছর | মোকামিয়া | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| হারেজ আলী | ৩৩ বছর | মোকামিয়া | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধটি বহু বছরের পারিবারিক ও স্থানীয় দ্বন্দ্বের ফল ছিল। ধান কাটার মৌসুমে জমির দখল ও ফসল তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়, যার ফলে একজনের প্রাণহানি ঘটে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকায় এই রায়কে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে ন্যায়বিচারের সঠিক প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং মামলার বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পুরো ঘটনাটি এলাকায় এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
মন্তব্য