খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই মার্চ ২০২৬, ৪:৫৩ এএম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা হল’-এ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রশাসনিক চাকা সচল রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
Table of Contents
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা এই প্রিয় বাংলাদেশকে আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। আমাদের পূর্বপুরুষের এই পবিত্র ভূমির মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদেরই কাঁধে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাধারণ মানুষের অনেক প্রত্যাশা ও স্বপ্ন নিয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। জনগণের সেই আস্থা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেবল নির্দেশ পালনকারী নন, বরং তারা সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া কোনো জাতীয় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি ইশতেহার বা মেনিফেস্টোতে উল্লিখিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার, নারী শিক্ষার প্রসার এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, দেশ থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রধান প্রধান দিকগুলো নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিশেষ অগ্রাধিকার ক্ষেত্র | লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা |
| দুর্নীতি প্রতিরোধ | প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। |
| শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংস্কার | আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। |
| নারী ও তরুণ উন্নয়ন | নারী শিক্ষার প্রসার এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। |
| রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা | রাষ্ট্র ও দেশের স্বার্থে সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা। |
| ক্রীড়া ও সংস্কৃতি | জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সাধন। |
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্য ও নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করা একটি পবিত্র দায়িত্ব। দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে এই নীতিমালাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন যে, যারা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবেন, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান এবং মাহ্দী আমিন। এছাড়াও কার্যালয়ের উর্ধ্বতন সচিব ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভার শেষে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য