কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বানিয়াপাড়া এলাকায় শুক্রবার দুপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি অটোরিকশা এবং একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের পর বাসটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাসটিকে গ্রাস করে এবং যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন শিশু, একজন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, এবং তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার দুর্ঘটনার সময় দুপুর পৌনে ১টা বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসটি অত্যধিক গতিতে চলছিল এবং দুর্ঘটনার সময় ব্রেক কার্যকর হয়নি। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “মুহূর্তের মধ্যেই বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, স্থানীয়রা অবিলম্বে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন এবং আশেপাশের মানুষও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন।”
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | দাউদকান্দি, কুমিল্লা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বানিয়াপাড়া |
| সময় | শুক্রবার, দুপুর ১২:৪৫–১:০০ টা |
| সংশ্লিষ্ট যানবাহন | বাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল |
| নিহত | ৪ জন (২ শিশু, ১ নারী, ১ পুরুষ) |
| আহত | ৮–১০ জন (বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন) |
| আগুন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা | কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস |
| দুর্ঘটনার কারণ | তদন্তাধীন; প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিং দায়ী |
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি সতর্ক করেছেন, মহাসড়কে দ্রুতগামী যানবাহনের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে। তিনি বলেন, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দুর্ঘটনার সংখ্যা কমাতে সকলকে কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে।”
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসের ভিতরে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে নিজেরাই উদ্ধার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অনেকেই জানালার কাঁচ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবে এবং ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে।
