সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চুরি হওয়া এক নবজাতককে দ্রুত ও সমন্বিত পুলিশের অভিযানে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছাতক ও শান্তিগঞ্জ থানার যৌথ তৎপরতায় শুক্রবার ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন ছাতক উপজেলার সদর ইউনিয়নের আন্ধারীগাঁও সড়কের পাশে একটি মানবিক ঘটনা ঘটে। ওই স্থানে আনুমানিক চার থেকে পাঁচ দিন বয়সী এক নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কাওসার আহমদ। শিশুটিকে একা অবস্থায় পেয়ে মানবিক কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে শিশুটির নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি দেখভালের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের হেফাজতে হস্তান্তর করে।
পরবর্তীতে নবজাতককে দত্তক নেওয়ার জন্য মোট তেরো জন আবেদন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কাওসার আহমদ শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান। এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতাল প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসন একযোগে তৎপর হয়ে ওঠে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে কাওসার আহমদ ও তার স্ত্রী কল্পনা বেগম শিশুটিকে নিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থান করছেন। এরপর ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল এবং শান্তিগঞ্জ থানার সহযোগিতায় যৌথ অভিযান শুরু করা হয়।
অভিযানের প্রথম ধাপে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বাদউল্লাহপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কাওসার আহমদকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে কল্পনা বেগমের কাছ থেকে শুক্রবার ভোরে নবজাতকটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পরপরই শিশুটিকে আবার ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দত্তক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শিশুটির নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ঘটনার সময়ক্রম সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো—
| সময়কাল | ঘটনার বিবরণ | স্থান | সংশ্লিষ্ট পক্ষ |
|---|---|---|---|
| ৮ জুন | সড়কের পাশে নবজাতক উদ্ধার | আন্ধারীগাঁও, ছাতক | অটোরিকশাচালক কাওসার আহমদ |
| পরবর্তীতে | হাসপাতালে ভর্তি ও সমাজসেবা হেফাজত | ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | হাসপাতাল ও সমাজসেবা বিভাগ |
| বৃহস্পতিবার | অনুমতি ছাড়াই শিশুটি নিয়ে যাওয়া | ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | কাওসার আহমদ |
| বৃহস্পতিবার রাত | যৌথ অভিযান শুরু | শান্তিগঞ্জ ও ছাতক এলাকা | পুলিশ প্রশাসন |
| শুক্রবার ভোর | নবজাতক উদ্ধার | কালারুকা এলাকা | ছাতক ও শান্তিগঞ্জ থানা |
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, শিশুটির চিকিৎসা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য পরিবারকে আইনগতভাবে শিশুটির দায়িত্ব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে আবেদনকারীদের পারিবারিক অবস্থা, সক্ষমতা ও যোগ্যতা যাচাই করা হবে। সব দিক বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী নবজাতকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত সমন্বিত অভিযানের ফলে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
