খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫৫ পিএম

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশ থেকে অন্তত দুই শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন এবং ফেনী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক। অভিযানের পর একদিকে প্রশাসন এটিকে সড়ক উন্নয়ন ও জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, যথাযথ লিখিত নোটিশ ও পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই তাঁদের দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুই পাশে অস্থায়ী দোকান, টংঘর, শেড এবং অন্যান্য স্থাপনা গড়ে ওঠায় উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। একই সঙ্গে মহাসড়কের সংরক্ষিত অংশ, ড্রেন ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যাওয়ায় ব্যস্ত সময়ে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হতো। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষকে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হতো, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছিল। চলমান সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তাজেল হোসেন হালদার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযানের আগের দিন, অর্থাৎ রোববার সন্ধ্যায় এলাকায় মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছিল। মাইকিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের স্বেচ্ছায় দোকান সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। ফল ব্যবসায়ী আবদু সালাম বলেন, তিনি বহু বছর ধরে রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর দাবি, দোকানের জন্য পৌরসভার লাইসেন্স ছিল এবং বাজার কমিটিকেও নিয়মিত ফি বা ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়েছে। তারপরও কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই তাঁর দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতে দোকানে থাকা অনেক মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন হঠাৎ এসে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন। পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় দোকানের মালপত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নষ্ট হওয়ার মতো পণ্যও ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। তাঁর মতে, আগে লিখিতভাবে নোটিশ দেওয়া হলে কিংবা অন্তত কয়েক দিনের সময় দেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতে পারত।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা, ফুটপাত ও ড্রেন দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসব অবৈধ স্থাপনা শুধু সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত করেনি, বরং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও যানবাহনের গতিও কমিয়ে দিচ্ছিল। জনস্বার্থ, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, মহাসড়ক দখলমুক্ত করা এবং সড়ক প্রশস্তকরণ নিঃসন্দেহে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাঁদের মতে, বিকল্প ব্যবসাস্থল বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা গেলে একদিকে যেমন উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও অনেকাংশে লাঘব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক, ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখা নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ বা ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।
মন্তব্য