জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

চার ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় দুই যুবক খুন

খুলনায় পৃথক দুটি ঘটনায় মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকাণ্ডে বটিয়াঘাটা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই দিনে কাছাকাছি এলাকায় দুই তরুণের হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হরিণটানা এলাকায়। নিহত মো. মনজুরুল ইসলাম (২২) ওই এলাকার আশি বিঘা কালভার্টের কাছে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, হামলাকারীরা প্রথমে তার পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তার বাম পায়ে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় চার ঘণ্টা পর আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেএমপি লবণচরা থানাধীন শিশু বাগান আশি বিঘা এলাকায় নাজমুল (১৯) নামের এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা তার মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায় বলে জানা গেছে।

পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর পৃথক ঘটনায় দুই যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, লবণচরা এলাকা থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর মরদেহের ক্ষেত্রে অপরাধ তদন্ত বিভাগের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে কারা রয়েছে এবং কী কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

দুটি ঘটনায় নিহতদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাগুলোর পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর