হরমুজ প্রণালী এলাকায় মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা জানানো হয় বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড সেন্টার থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালী এলাকায় নৌ চলাচলে অবরোধ বা বাধা অব্যাহত রাখে, তবে ইরানের পক্ষ থেকে এর উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বিবৃতিটি ইরানের একাধিক রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে তাসনিম নিউজ এজেন্সিও রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমকে “অবরোধ, দস্যুতা ও সমুদ্র ডাকাতি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দেবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম আঞ্চলিক নৌ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলছে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা আরও জটিলতার দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগামী ও বন্দরত্যাগী নৌযান চলাচলে অবরোধ আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্র একাধিক জাহাজ আটক করেছে। এই ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক বা নিরাপত্তাজনিত পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের সামরিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলে “অবরোধমূলক ও অননুমোদিত কার্যক্রম” চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ধরন বা প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন।
