রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান (৪৬) নামের এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মায়ের সঙ্গে রিকশা-ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে। নিহত মিজানুর রহমান ওই গ্রামেরই মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং তিনি বাড়ির পাশেই পোড়ারহাট বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মিজানুরের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও আইনি মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে দোকানের সামনে বসে থাকার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেল দিয়ে তার পায়ে সজোরে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর এর প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।
উক্ত ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে মিজানুর তার মা আজুবা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় জিডি করতে যান। থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতে রিকশা-ভ্যানে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে পোড়ারহাট বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ভ্যানের গতি রোধ করে।
অভিযোগে প্রকাশ, নূরনবী, নূর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম ও মাহফুজারসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল বঁটি, রামদা, ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতভাবে মিজানুরের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা তাকে ভ্যান থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে প্রথমে বেধড়ক মারধর করে এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে।
ছেলের প্রাণ বাঁচাতে মা আজুবা বেগম হামলাকারীদের পায়ে হাতজোড় করে বারবার মিনতি করলেও পাষণ্ডরা তাকে ধাক দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং মিজানুরের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সুযোগ বুঝে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় নিহতের মা আজুবা বেগম বাদী হয়ে বুধবার মিঠাপুকুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দায়েরকৃত ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের বোন রেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ভাই অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির ছিলেন এবং নিয়মিত পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন। কোনো ধরনের অপরাধ ছাড়াই তাকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ছাড়াও এলাকার প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল করিম জানান, ভ্যান থেকে নামিয়ে যেভাবে ঠান্ডা মাথায় লাঠিপেটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তাতে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে জোরেশোরে অভিযান চালাচ্ছে।









