শুক্রবার, ২১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুম। প্রতি বছরের মতো এবারও শিরোপার লড়াই, শীর্ষ চারে জায়গা করে নেওয়ার প্রতিযোগিতা এবং অবনমন এড়ানোর লড়াই ঘিরে থাকবে ব্যাপক উত্তেজনা। তবে নতুন মৌসুমে আলাদা করে আলোচনায় থাকবেন কয়েকজন ফুটবলার, যাঁদের ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বড় প্রত্যাশা।
বিশেষ করে বড় অঙ্কের দলবদল, নতুন কোচের অধীনে নতুন দায়িত্ব এবং শীর্ষ ক্লাবগুলোর পুনর্গঠনের কারণে পাঁচ তারকার পারফরম্যান্সের দিকে থাকবে বাড়তি নজর।
মর্গান রজার্স—চেলসি
অ্যাস্টন ভিলা থেকে ব্রিটিশ রেকর্ড ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন মর্গান রজার্স। ২৪ বছর বয়সী ইংলিশ এই মিডফিল্ডারকে নতুন কোচ জাবি আলোনসোর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দশম হয়ে শেষ করা চেলসি এবার নিজেদের অবস্থান পাল্টাতে মরিয়া। সেই লক্ষ্যে রজার্সের সৃজনশীলতা, আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা এবং গোল করার সামর্থ্য দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চেলসিতে তাঁর পুরোনো বন্ধু কোল পালমারও রয়েছেন। দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া রজার্সের নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে। তবে একই ধরনের জায়গায় খেলা দুই প্রতিভাকে আলোনসো কীভাবে একসঙ্গে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেন, সেটিও হবে বড় প্রশ্ন।
এলিয়ট অ্যান্ডারসন—ম্যানচেস্টার সিটি
মর্গান রজার্স চেলসিতে যাওয়ার আগে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটেনের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ছিলেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে আসা ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের ওপর তাই প্রত্যাশার চাপও কম নয়।
সিটির মাঝমাঠে রদ্রি ও বার্নার্দো সিলভা না থাকায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই জায়গায় অ্যান্ডারসনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হতে পারে। পাসিং, পজিশনিং এবং চাপের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার কারণে তাঁকে দলে আনতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে সিটি।
দুই মৌসুম ধরে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার ম্যানচেস্টার সিটির লক্ষ্য আর্সেনালের কাছ থেকে মুকুট পুনরুদ্ধার করা। সেই অভিযানে অ্যান্ডারসনের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটিই দেখার বিষয়।
ব্রুনো গিমারায়েস—আর্সেনাল
নিউক্যাসল থেকে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসকে ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে টেনেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করতেই এই বড় বিনিয়োগ।
মিকেল আর্তেতার পরিকল্পনায় গিমারায়েসের সঙ্গে থাকবেন ডেক্লান রাইস ও মার্টিন ওডেগার্ড। ফলে আর্সেনালের মাঝমাঠে বল দখল, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে আরও ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন সতীর্থের সঙ্গে অনুশীলনে বোঝাপড়া নিয়ে ওডেগার্ডও সন্তুষ্ট। তবে অনুশীলনের সেই সমন্বয় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কতটা কার্যকর হয়, তা দ্রুতই স্পষ্ট হবে।
সান্দ্রো টোনালি—টটেনহ্যাম
নিউক্যাসল ছেড়ে টটেনহ্যামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সান্দ্রো টোনালির সময় লেগেছিল মাত্র ১০ মিনিট—এমনটাই উঠে এসেছে তাঁর দলবদল-সংক্রান্ত বক্তব্যে। এবার মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করার পালা ইতালিয়ান মিডফিল্ডারের।
২৬ বছর বয়সী টোনালি নিউক্যাসলের হয়ে গত মৌসুমের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বল নিয়ন্ত্রণ, পরিশ্রম এবং মাঝমাঠে চাপ সামলানোর ক্ষমতার কারণে তিনি ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
টটেনহ্যামে এবার নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন কোচ রবার্তো ডি জারবির অধীনে। গত মৌসুমে অবনমন এড়ানোর পর ক্লাবটি এবার আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে চাইছে। সেই পরিকল্পনায় টোনালির অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে বড় অঙ্কের দলবদল মূল্য তাঁর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে—এ বিষয়টিও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। নতুন দলের প্রত্যাশা সামলে তিনি কতটা ধারাবাহিক হতে পারেন, তা মৌসুমের অন্যতম আলোচনার বিষয় হবে।
জেরেমি জ্যাকে—লিভারপুল
রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে নতুন মৌসুমে আরও দৃঢ় হতে চায় লিভারপুল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফরাসি ক্লাব রেনে থেকে প্রায় ৬ কোটি পাউন্ডে ২১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার জেরেমি জ্যাকে-কে দলে নিয়েছে তারা।
লিভারপুলের রক্ষণে এবার বড় পরিবর্তন এসেছে। ইব্রাহিমা কোনাতে রিয়াল মাদ্রিদে এবং অ্যান্ড্রু রবার্টসন টটেনহ্যামে চলে যাওয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অভিজ্ঞ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের বয়স ৩৫। ফলে নতুন প্রজন্মের একজন ডিফেন্ডারের ওপর দায়িত্ব বাড়ার বিষয়টি স্বাভাবিক।
জ্যাকের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হবে ফন ডাইকের সঙ্গে দ্রুত বোঝাপড়া তৈরি করা। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারও মনে করছেন, নতুন জুটির সমন্বয় গড়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। তবে মৌসুম যত এগোবে, তাঁদের বোঝাপড়া লিভারপুলের রক্ষণকে কতটা স্থিতিশীল করে তুলতে পারে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন মৌসুমে তাই এই পাঁচ ফুটবলারের পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য বা ব্যর্থতার হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁদের প্রত্যেকের ওপর রয়েছে নিজেদের ক্লাবের বড় প্রত্যাশা। কেউ নতুন কোচের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কেউ আবার বড় দলবদলের পর নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায়। প্রিমিয়ার লিগের দীর্ঘ ও কঠিন মৌসুমে শেষ পর্যন্ত কারা প্রত্যাশার চাপ সামলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।









