সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফীক নেওয়াজকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাঁর মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাওয়া সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি শেষ পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন। দাফন ও পরিবারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সময় কাটানোর পর তাঁকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তৌফীক নেওয়াজের দাফনের সময় পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মেয়ে দ্বীপান্বিতা নেওয়াজ বাবার কবরে মাটি দেন। দাফন শেষে বনানী গোরস্তান মসজিদের ইমাম মাওলানা ওমর ফারুকের পরিচালনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দীপু মনি, পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত স্বজনেরা অংশ নেন। স্বামীর শেষ বিদায়ের এই পর্বে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দাফন শেষে দীপু মনি বনানী কবরস্থানে তাঁর বাবা এম এ ওয়াদুদের কবরও জিয়ারত করেন। এম এ ওয়াদুদ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন ছিলেন। বাবার কবর জিয়ারত শেষে বৃষ্টির মধ্যেই তাঁকে আবার প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে স্বামীর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য দীপু মনিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় আনা হয়। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর বাসার আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ওই এলাকায় যাতায়াতকারী ব্যক্তিদেরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পরে দুপুর সোয়া ১২টার পর তৌফীক নেওয়াজের মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যান গুলশানের আজাদ মসজিদের উদ্দেশে রওনা হয়। কিছুক্ষণ পর দীপু মনিকেও প্রিজন ভ্যানে করে সেখানে নেওয়া হয়। বাদ জোহর আজাদ মসজিদে তৌফীক নেওয়াজের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার সময় দীপু মনি প্রিজন ভ্যানের ভেতরেই ছিলেন। নামাজ শেষ হলে তিনি ভ্যান থেকে নেমে স্বামীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীকে শেষ বিদায় জানানোর সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত স্বজনদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়।
জানাজা শেষে বেলা ২টার দিকে দীপু মনিকে আবার প্রিজন ভ্যানে করে বনানী কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে তৌফীক নেওয়াজের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তিনি তাঁর বাবা এম এ ওয়াদুদের কবর জিয়ারত করেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাঁকে একই নিরাপত্তাব্যবস্থায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
দীপু মনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে কর্তৃপক্ষ সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা করে। প্যারোলের এই সময়টিতে তাঁর চলাচল নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং পুরো সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে তিনি ছিলেন।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার তৌফীক নেওয়াজ দেশের উচ্চ আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং আইনজগতের পরিচিতজনেরা জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁর শেষ ঠিকানা নির্ধারিত হয়।
স্বামীর জানাজা, দাফন এবং বাবার কবর জিয়ারত—সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দীপু মনির আবার কারাগারে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর জন্য নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার প্যারোলের সময়ও শেষ হয়। ব্যক্তিগত জীবনের এমন কঠিন সময়ে স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।









