খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৩ এএম

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি মাত্র তিন বছর বয়সে বিয়ে ও পিতৃত্বের তথ্য জমা দিয়ে জন্মনিবন্ধনে বয়স পরিবর্তন করে গ্রামপুলিশের পদ পেয়েছেন। এতে তার ছেলের বয়সের সঙ্গে তার ব্যবধান মাত্র তিন বছর হয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদী তীরবর্তী রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। কয়েক বছর আগে তিনি সন্তানদের বিয়েও দিয়েছেন। তবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর সহায়তায় জন্মনিবন্ধনে বয়স জালিয়াতি করে ২৯ বছর দেখিয়ে তিনি গ্রামপুলিশের পদে যোগ দেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু হাফিজুর নয়, আগস্টে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৯ জনকে গ্রামপুলিশ নিয়োগ দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট প্রায় কোটি টাকার লেনদেন করেছে। জনপ্রতি প্রায় চার লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। হাফিজুর ২৮ আগস্ট বয়স জালিয়াতি করে চাকরিতে যোগ দেন।
জাতীয় পরিচয়পত্রে হাফিজুরের জন্ম ৭ মে ১৯৮৫ হিসেবে থাকলেও, নতুন জন্মনিবন্ধনে ৭ মে ১৯৯৬ দেখানো হয়েছে। তার ছেলে নয়ন মিয়ার জন্ম ১ মার্চ ১৯৯৯—ফলে কাগজে-কলমে বাবা ছেলের থেকে মাত্র তিন বছরের বড়।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য রবিউল হক বলেন, বয়স জালিয়াতি শুধুমাত্র অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একজন গ্রামপুলিশও জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান তিন লাখ টাকা নিয়েছেন।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন এবং ভোটার আইডিতে বয়স ভুল রয়েছে। অন্যদিকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সরবেশ আলী জানিয়েছেন, স্কুল ও জন্মনিবন্ধন যাচাই করে চাকরি দেওয়া হয়েছে, কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদার জানিয়েছেন, বয়স জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করা হবে।
জিলাইভ/টিএসএন
মন্তব্য