ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা হল শেখ মুজিবুর রহমান হলকে শহীদ ওসমান হাদি হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলকে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল হিসেবে পুনঃনামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন (ডাকসু) নেতাদের স্মারকলিপির ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়। ডাকসু নেতারা হলের নামকরণের মাধ্যমে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় নায়ক-নায়িকাদের কৃতিত্ব স্মরণে রাখার দাবি জানিয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই নাম পরিবর্তনের সুপারিশ অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, উভয় হলের নাম পরিবর্তন করলে তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কর্তৃক ত্বরান্বিত হবে।
একই সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট চারজন আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের শোকজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া দুটি ক্ষেত্রে শিক্ষককে সতর্ক করারও সুপারিশ এসেছে।
নিচের টেবিলে নাম, পদবী ও নোটিশ/সতর্কতার বিষয়বস্তু দেখানো হলো:
| শিক্ষক/অধ্যাপক | পদবী | সিদ্ধান্ত/নোটিশ | মন্তব্যের কারণ |
|---|---|---|---|
| অধ্যাপক জিনাত হুদা | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ | শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে |
| অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ | শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে |
| অধ্যাপক সাদেকা হালিম | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ | শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে |
| অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ | শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে |
| অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | সতর্ক | শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে |
| অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | সতর্ক | শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে |
প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনা করে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং দুই শিক্ষকের সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুটি হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।”
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নামকরণ সবসময়ই জাতীয় নায়ক-নায়িকাদের স্মরণে করা হয়ে থাকে। এই নতুন নামকরণের ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে উভয় হল নতুন নামের অধীনে পরিচিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে জাতীয় ইতিহাস ও কৃতিত্বের চেতনা আরও দৃঢ় হবে।
