জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ৯:১৮ পিএম

রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে উদ্ধারে গিয়ে ঢাকার সাভারে ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটির সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার এবং নারী কনস্টেবল সুমী আক্তার। শনিবার রাতেই এক প্রশাসনিক আদেশে তাঁদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম মিন্টুর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মিমি আক্তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান চালিয়ে তাকে না পেয়ে পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এর সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার চার সদস্যের একটি টিম সাভারের বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার (বিপিএটিসি) বা লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্টাফ কোয়ার্টারে উদ্ধার অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশের দাবি, তদারকি দল যখন ভবনটির নিচতলায় অবস্থান করছিল, ঠিক তখন ছাদ থেকে ভারী কিছু নিচে পড়ে যাওয়ার বিকট শব্দ হয়। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের নাম মনোয়ারুল ইসলাম বকশী। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে।
তবে পুলিশের এ দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন নিহতের পরিবার ও সহকর্মীরা। স্বজনদের অভিযোগ, অভিযান চলাকালে মনোয়ারুলকে ভবনটির ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ খবর পীরগাছায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত শনিবার সকালে নিহতের স্বজন, স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক জানান, ঘটনার পেছনে মূল কারণ কী তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা ও রংপুরে দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত চলাকালে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই চার পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য