খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই এপ্রিল ২০২৬, ২:১০ পিএম

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দীঘলকান্দী গ্রামে ২২ বছর বয়সী সুজন মিয়া মানসিক চাপের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, কনের পক্ষ সুজনকে পছন্দ না করায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
Table of Contents
সুজন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের জন্য পরিবারে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার পাত্রী দেখা করানো হলেও কনেপক্ষ বিভিন্ন কারণে তাকে গ্রহণ করেনি। বিষয়টি সুজনের মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে, তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মাথার বড় চুল নিয়ে তর্কবিতর্কের পর কয়েকদিন তিনি পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ রাখেন।
শনিবার রাতের খাবার খাওয়ার পর সুজন নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে পরিবারের ডাকাডাকি ও ঘনিষ্ঠদের কয়েকবার খোঁজ নেওয়ার পরও তিনি সাড়া না দেওয়ায় দরজা ভাঙা হয়। তখন তিনি ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যান।
সুজনের দাদা কাবেল সরকার বলেন, “আমরা বহু কনের সঙ্গে দেখা করেছি। কিন্তু কনেপক্ষ সুজনকে পছন্দ করেননি। দীর্ঘদিনের অবসাদ ও হতাশায় সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এই ঘটনায় গভীর শোকে ভুগছি।”
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | সুজন মিয়া |
| বয়স | ২২ বছর |
| ঠিকানা | উত্তর দীঘলকান্দী, হলদিয়া ইউনিয়ন, সাঘাটা |
| সময় | ৪ এপ্রিল, শনিবার রাত |
| আত্মহত্যার কারণ | কনের পক্ষের অপছন্দ, মানসিক চাপ |
| পরিবারের অবস্থা | কথাবার্তা বন্ধ, বাবা-মায়ের সঙ্গে তর্ক |
| পুলিশ ব্যবস্থা | ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন অনুমতি, অপমৃত্যুর মামলা |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুবকদের মধ্যে মানসিক চাপ ও পারিবারিক সমস্যা একত্রিত হলে আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবারের মনোযোগ, মানসিক সহায়তা এবং স্থানীয় সমাজের সহানুভূতি অপরিহার্য।
সাঘাটার স্থানীয়রা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও যুবকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা এখন অতিদ্রুত প্রয়োজন। সুজন মিয়ার অকাল প্রস্থান পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা জরুরি।
মন্তব্য