খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই অক্টোবর ২০২২, ১:১ পিএম
এম এম শাহীন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
Table of Contents

এম এম শাহীন ১ আগস্ট ১৯৬০ সালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুর রব ও মাতার নাম সৈয়দা মাহেরু রব। শিক্ষাজীবনে শাহীন সরকারী তিতুমীর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় প্রথমে পশ্চিম জার্মানিতে ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন।
এম এম শাহীন ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচন করে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তিনি পুনরায় বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে পুনরায় সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জাতীয় পার্টির নবাব আলী আব্বাস খানের কাছে পরাজিত হন।
১৫ নভেম্বর ২০১৮ সালে তিনি বিকল্পধারায় যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিকল্পধারার হয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান।

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ
মন্তব্য