খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই মে ২০২৬, ১১:৫ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বড় অঙ্কের নোট লেনদেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে Bangladesh Bank। বিশেষ করে কোরবানির পশু কেনাবেচার সময় জাল নোটের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশজুড়ে অর্থের লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে পশুর হাটগুলোতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থের ব্যবহার বেড়ে যায়। এই সময় জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, জাল নোটের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রতারণা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিজ্ঞপ্তিতে বড় মূল্যমানের নোট লেনদেনের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এক হাজার, পাঁচশ, দুইশ ও একশ টাকার নোট গ্রহণ বা প্রদানের সময় নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, রং পরিবর্তনশীল কালি এবং অসমতল ছাপার মতো বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাল নোট শনাক্ত করতে নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংক অথবা অনুমোদিত পশুর হাটে স্থাপিত ব্যাংকের অস্থায়ী বুথে কর্মরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ব্যাংকের কর্মকর্তারা নোট যাচাইয়ের বিষয়ে প্রশিক্ষিত হওয়ায় তাদের সহায়তা গ্রহণ করলে জাল নোট শনাক্ত করা সহজ হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহার করা নিরাপদ। অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণ কিংবা অর্থ প্রদান করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিজে সচেতন থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং জেলা পর্যায়ের পশুর হাটগুলোতে নগদ অর্থের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এই সময়কে কেন্দ্র করে জাল নোট চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যাংক এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে আসল নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারেন, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া রয়েছে। আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত অনলাইন পাতায় ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের সময় সচেতনতা বাড়ানোর এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পশুর হাটে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ালে জাল নোটের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আসল নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:
মন্তব্য