জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একটি ধানখেত থেকে হাত-পা বাঁধা ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের নওজোর গ্রামের ‘নিশ্চিন্তা’ মাঠ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে স্থানীয় কৃষকরা মাঠের কাজে গিয়ে ধানখেতের ভেতর একটি গর্তে মানুষের পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানানো হয়। সংবাদ পেয়ে আক্কেলপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মাটি খুঁড়ে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিহতের হাত ও পা রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। মরদেহের শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে অন্য কোথাও হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নির্জন এই ধানখেতে পুঁতে রেখেছিল। লাশের পরনে ছিল একটি লুঙ্গি এবং নীল ও ঘিয়া রঙের চেক গেঞ্জি।
উদ্ধারকৃত মরদেহের প্রাথমিক তথ্যাবলি
| বিষয় | বিবরণ |
| উদ্ধারের তারিখ | ১২ মে, ২০২৬ (মঙ্গলবার) |
| উদ্ধারের স্থান | নওজোর গ্রাম, নিশ্চিন্তা মাঠ, আক্কেলপুর |
| ভিকটিমের পরিচয় | অজ্ঞাত পুরুষ |
| শারীরিক চিহ্ন | হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা, শরীরে জখম |
| পোশাক | নীল ও ঘিয়া রঙের গেঞ্জি এবং লুঙ্গি |
| আনুমানিক সময় | ২ থেকে ৩ দিন আগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে |
| বর্তমান অবস্থান | ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরিত |
স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এলাকাটি জনশূন্য এবং ফসলি মাঠ হওয়ার সুযোগ নিয়ে খুনিরা রাতের অন্ধকারে এই কাজ সম্পন্ন করেছে। মাটির গভীরতা কম হওয়ায় এবং পা দুটি মাটির ওপরে দৃশ্যমান থাকায় বিষয়টি দ্রুত নজরে আসে। উপস্থিত জনতার কেউ লাশটি শনাক্ত করতে পারেননি, যার ফলে ধারণা করা হচ্ছে নিহত ব্যক্তি ওই এলাকার বাসিন্দা নন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বা পিবিআই-এর কারিগরি সহায়তায় নিহতের আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ নিহতের পরিচয় উদঘাটনসহ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে স্থানীয়দের কাছে অজ্ঞাত এই ব্যক্তির পরিচয় জানা থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা এই লাশের পরিচয় পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ধার করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
