খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই ডিসেম্বর ২০২৫, ২:৫০ এএম

বাংলাদেশের সংগীতজগতে মাঝেমধ্যে এমন কিছু শিল্পী থাকেন যারা হঠাৎ আলোচনায় আসেন, আবার নীরব হয়ে পর্দার আড়ালে চলে যান—কিন্তু সৃজনশীলতার ধার তারা কখনোই থামান না। কণ্ঠশিল্পী মাহাদী ফয়সাল ঠিক সেই ধরনের শিল্পী। “সুনীল–বরুণা” দিয়ে যিনি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তিনিই এখন আবার ফিরে আসছেন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে।
Table of Contents
১৯৯৫ সালের “নতুন কুঁড়ি”-তে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় হওয়া ছিল তাঁর প্রাথমিক স্বীকৃতি। পরের বছর লোকগীতে প্রথম হওয়া তাঁর বহুমুখী গায়কির পরিচয় দেয়। “নতুন কুঁড়ি” থেকে উঠে আসা শিল্পীদের পরের ধাপে সাধারণত সংগীতশিক্ষা বাড়ানো বা মঞ্চচর্চা হয়, কিন্তু মাহাদী তার চেয়েও এগিয়ে যান—২০০৫ সালে প্রতিযোগিতামূলক রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
“ক্লোজআপ ওয়ান”-এর সেরা এগারোতে জায়গা পাওয়া শুধু জনপ্রিয়তা নয়, তাঁর বাজারযোগ্যতা তৈরি করে। ভক্তদের উচ্ছ্বাস, শহরে–গ্রামে পোস্টার—এগুলো একজন শিল্পীর প্রতি মানুষের আবেগ কতটা গভীর হতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ।
২০০৭ সালের একক অ্যালবাম বন্দনা অডিও বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করে দেন। “সুনীল–বরুণা” গানটি তাঁর বাজারচাহিদা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। শুধু পুরস্কার নয়, গানটির সুর–কথা–গায়কির মিল তাঁকে শিল্পী হিসেবে ব্র্যান্ডে রূপ দেয়।
২০০৯ সালে এলিটার সঙ্গে ডুয়েট অ্যালবাম অন্তহীন বের হলে প্রমাণ হয়—তিনি শুধু একক শিল্পী নন, বরং জুটি হিসেবেও অত্যন্ত সফল। “হৃদয়ের ঝড়ে” বা “নিঝুম রাত”—এসব গান আজও প্লেলিস্টে জায়গা ধরে রেখেছে।
ডিজিটাল যুগে সিডি অ্যালবামের পতন অনেক শিল্পীকে পিছিয়ে দেয়, কিন্তু মাহাদী একক ট্র্যাকে ফোকাস করেন। তাঁর মতে, “শ্রোতাদের ভালো গান দেওয়াই মূল লক্ষ্য। সংখ্যা নয়, মানই আসল।” এই মানসিকতা তাঁকে করোনাকালেও থামতে দেয়নি। তিনশর বেশি শিল্পীকে নিয়ে মোটিভেশনাল গান বানানো তাঁর সক্ষমতা ও নেতৃত্বের পরিচায়ক।
নতুন যুগে তাঁর প্রকাশিত “যখন যুদ্ধে আছি”, “কেউ বোঝে তো কেউ বোঝে না”, “কত কাছে তোমার”—সবই প্রমাণ করে তিনি ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।
তিনি করপোরেট চাকরির পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেন। ২০১০ সালে বিয়ে, ২০১৫ সালে কন্যাসন্তানের জন্ম—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন এখন শিল্পী ও পেশাজীবী, দুই পরিচয়ের সমন্বয়।
চলতি বছরের শেষে তাঁর নতুন গান আসছে। নজরুলসংগীত নিয়েও কাজের প্রস্তুতি চলছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন—মাহাদী ফিরে আসছেন পরিণত, স্থিতিশীল ও সৃজনশীল এক শিল্পী হিসেবে।
মন্তব্য