খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই ডিসেম্বর ২০২২, ৩:৫০ পিএম
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে এক কিংবদন্তি নাম। আশির দশকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি তাঁর স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন। তিনি যেমন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, তেমনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও নিজের রাজনৈতিক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
Table of Contents
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে, যেখান থেকে তিনি এসএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
সুলতান মনসুর আশির দশকে সারা বাংলাদেশে ছাত্রনেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর যখন সারা দেশে ভয়ার্ত পরিবেশ ছিল, তখন যে কজন তরুণ ছাত্রনেতা রাজপথে প্রথম প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, সুলতান মনসুর তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৭-০৮ সালের ওয়ান-ইলেভেন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগের মূল ধারা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘ এক দশক রাজনীতির আড়ালে থাকার পর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে হাজির হন।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৭৯,৭৪২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করার জন্য জোটের সিদ্ধান্ত থাকলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং সংসদে বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে যায়। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে (যুক্তরাজ্য ও কানাডা) থাকার পর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে দেশে ফেরার পরপরই ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে ডিবি পুলিশ আটক করে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি’র সমাবেশে হামলা এবং যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলার মতো একাধিক অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং কারাগারে রয়েছেন।
| বিষয় | তথ্য |
| জন্মস্থান | কুলাউড়া, মৌলভীবাজার |
| শিক্ষাগত পরিচয় | এম সি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| ঐতিহাসিক পদ | সাবেক ভিপি, ডাকসু (১৯৮৯-৯০) |
| রাজনৈতিক ক্যারিয়ার | সাবেক সভাপতি (ছাত্রলীগ), সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (আওয়ামী লীগ) |
| সংসদ সদস্য | মৌলভীবাজার-২ (১৯৯৬ ও ২০১৮) |
| বর্তমান অবস্থা | আইনি প্রক্রিয়ার আওতাধীন (কারাবন্দী) |
মন্তব্য