এম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের খুলনা জেলার রাজনীতিবিদ ও ভাষাসৈনিক যিনি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
এম নুরুল ইসলাম | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন
এম নুরুল ইসলাম ২ মে ১৯৩৪ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খাদেম আহমেদ পেশায় চিকিৎসক ও মাতা আছিয়া খাতুন গৃহিণী ছিলেন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন তিনি। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তিনি ১৯৪৭ সালে কলকাতা মেট্রোপলিটন হাই ইংলিশ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে ১৯৪৯ সালে খুলনার বিএল কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে আইএ পাশ করেন।
রাজনৈতিক জীবন
ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন এবং বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে খুলনা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মৃত্যু
এম নুরুল ইসলাম ২১ অক্টোবর ২০২০ সালে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। টুটপাড়া কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ