মঙ্গলবার প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মূল্য ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে এক মার্কিন ডলারের মূল্য ধরা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। ইউরোর মূল্য ১৪১ টাকা ৪৬ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৫ টাকা ৪৫ পয়সা।
বৈদেশিক মুদ্রার এই হার আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা, প্রবাসী আয়, বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমদানিকারকদের পণ্য কেনার ব্যয় নির্ধারণে এবং রপ্তানিকারকদের আয় হিসাব করতে মুদ্রার বিনিময়মূল্যের পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এক কানাডীয় ডলারের মূল্য ৮৮ টাকা ৩ পয়সা। অস্ট্রেলীয় ডলারের মূল্য ৮৬ টাকা ৭৭ পয়সা। সিঙ্গাপুরি ডলারের বিনিময় হার ৯৫ টাকা ৫৮ পয়সা। চীনা মুদ্রার ক্ষেত্রে এক ইয়েনের মূল্য ১৮ টাকা ১১ পয়সা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নিকটবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ভারতের মুদ্রা রুপির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে প্রতি রুপিতে ১ টাকা ২৭ পয়সা। মালয়েশীয় রিঙ্গিতের মূল্য ৩০ টাকা ২৭ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মুদ্রার মধ্যে সৌদি রিয়ালের মূল্য ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা, কাতারি রিয়ালের মূল্য ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামের মূল্য ৩৩ টাকা ৪৩ পয়সা।
তালিকায় সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের মুদ্রা কুয়েতি দিনার। এক কুয়েতি দিনারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার মূল্য ৩৯৭ টাকা ৬৭ পয়সা। ফলে কুয়েত থেকে প্রবাসী আয় পাঠানো বা দেশটির সঙ্গে বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই বিনিময় হার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
| বৈদেশিক মুদ্রা | বাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার |
|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা |
| ইউরো | ১৪১ টাকা ৪৬ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৫ টাকা ৪৫ পয়সা |
| কানাডীয় ডলার | ৮৮ টাকা ০৩ পয়সা |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৬ টাকা ৭৭ পয়সা |
| চীনা ইয়েন | ১৮ টাকা ১১ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | ৯৫ টাকা ৫৮ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৭ পয়সা |
| মালয়েশীয় রিঙ্গিত | ৩০ টাকা ২৭ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৩৯৭ টাকা ৬৭ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৪৩ পয়সা |
মুদ্রার বিনিময় হার কোনো স্থির মূল্য নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার চাহিদা ও জোগান, সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থবাজারের পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণে এর মূল্য ওঠানামা করতে পারে। একই দিনে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী হার পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
বাস্তব লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রকাশিত নির্দেশক হার এবং ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কার্যকর হারের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। কারণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার সময় প্রতিষ্ঠানভেদে ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য, সেবামূল্য এবং অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ যুক্ত হতে পারে।
প্রবাসী আয় গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের বিপরীতে দেশে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার রূপান্তর হার এবং লেনদেনের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। একইভাবে বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত হার ও প্রযোজ্য খরচ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আমদানি-রপ্তানি খাতেও মুদ্রার ওঠানামার প্রভাব রয়েছে। কোনো বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য কমে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের হিসাবেও বিনিময় হারের পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বৈদেশিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার সর্বশেষ হার যাচাই করে থাকে।
এ কারণে বিদেশে অর্থ পাঠানো, বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা, আমদানি-রপ্তানি বিল পরিশোধ কিংবা প্রবাসী আয় গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর বিনিময় হার জেনে নেওয়া জরুরি। প্রকাশিত হারকে নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, কারণ প্রকৃত লেনদেনের সময় প্রযোজ্য হার পরিবর্তিত হতে পারে।
বিঃদ্রঃ প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।









