জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

গম আমদানি ও রূপপুর প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন: রুশ দূতাবাস

রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) গম আমদানিতে অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অপ্রমাণিত’ বলে দাবি করেছে ঢাকায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাস। এর পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি খাতের বিভিন্ন যৌথ অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে রাশিয়া থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে গম কেনার কথিত অনিয়ম ও বড় বড় জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব খবরকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে দূতাবাস উল্লেখ করে, এ ধরনের ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার দুদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় রাশিয়ার অবদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার এক অপচেষ্টা মাত্র।
গম আমদানির স্বচ্ছতা তুলে ধরে রুশ দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশ ও রাশিয়া সরকারের মধ্যে খাদ্যশস্য কেনার পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এসব কেনাকাটা সম্পন্ন করা হয়। দুদেশের আন্তঃসরকার কাঠামো চুক্তির অধীনে সরাসরি সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়। ফলে কোনো অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ কিংবা মধ্যস্থতাকারীর দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলার বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগই অবশিষ্ট থাকে না।
আমদানিকৃত গমের গুণগত মান নিয়েও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। তারা জানায়, রপ্তানি করা প্রতিটি কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক ফাইটোস্যানিটারি মান এবং বাংলাদেশের কারিগরি শর্তাবলি মেনে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে খালাসের আগেই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিদর্শন সংস্থা পণ্যের গুণগত মানের সনদ প্রদান করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে পৌঁছালে খাদ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ ল্যাবরেটরিতে ভৌত ও রাসায়নিক পরীক্ষা পরিচালনা করে। এর ফলে নিম্নমানের কিংবা ত্রুটিপূর্ণ গম সরবরাহের দাবিটি একেবারেই অমূলক।
একই সঙ্গে গমের উৎস নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ানের অংশ বলে মনে করে দূতাবাস। রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে কেবল নিজস্ব বৈধ কৃষি খাত থেকে সংগৃহীত গমই বাংলাদেশে পাঠায় বলে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়।
খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মেগা প্রকল্পগুলোকে দুদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থায়ী প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রসঙ্গে তারা জানায়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ করছে। ফলে এই মেগা প্রকল্পে অর্থনৈতিক অনিয়ম বা অননুমোদিত কোনো পক্ষের যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ নেই।
এছাড়া ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি কূপ সফলভাবে খনন করেছে, বিশেষ করে ভোলার গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে। যা জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে দেশীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা মেটাতে কার্যকর অবদান রাখছে।
পরিশেষে বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করে রুশ দূতাবাস জানায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও রাশিয়া বাংলাদেশকে উচ্চমানের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাবে। পাশাপাশি সাংবাদিকতার পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে নিরপেক্ষ ও সত্য তথ্য পরিবেশনের জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস, যাতে দুদেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকে।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর