মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার চণ্ডিখালী গ্রামে এ সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডিখালী গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন একই গ্রামের সাবেক গয়েশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আসাদ মল্লিক। স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চণ্ডিখালী গ্রামের ইসরাইল মাস্টারের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে প্রথমে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজুল ইসলামের সমর্থক ইমদাদুল, বয়স প্রায় ৪০ বছর, এবং আকুল, বয়স প্রায় ৫০ বছর, লাঙ্গলবাঁধ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁরা ইসরাইল মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় আসাদ মল্লিকের সমর্থক হাসিব, জিকু, আসাদুল ও রহমতসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের মারধর করেন। এতে ইমদাদুল ও আকুল গুরুতর আহত হন। তাঁদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিরাজুল ইসলামের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়ে। এতে আসাদ মল্লিকের সমর্থক সিরাজ, বয়স প্রায় ৪০ বছর, আলম, বয়স প্রায় ৫৫ বছর, এবং আমিরুল, বয়স প্রায় ৫০ বছর, আহত হন। ফলে দুই পক্ষ মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত পাঁচজনে।
আহতদের প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আহতদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের লোকজন পরস্পরের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ও একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে সিরাজুল ইসলামের সমর্থক মন্টু, রাশেদ, সোহেল, ওয়াসিম, মুক্তার, সবুজ ও মিরাজ শেখের দোকান এবং আসাদ মল্লিকের সমর্থক সোহরাব খান, আশরাফ খান, মহিদুল মোল্যা, মীর কাসেম, রফিকুল ইসলাম ও মোজাম্মেলসহ কয়েকজনের বাড়িঘর রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর চণ্ডিখালী গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যাতে বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা হামলার ঘটনা না ঘটে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সামান্য কোনো ঘটনাও দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।









