জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে একটি পেট্রলপাম্পের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পেট্রলপাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ছিনতাইকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার ডিএল পেট্রলপাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য রোববার সকালে কর্মীরা রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিন, সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান এবং কাভার্ড ভ্যানের চালক খোরশেদ।
তাঁরা টাকাভর্তি একটি ব্যাগ নিয়ে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের শাখার দিকে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর সড়কে ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয় থেকে সাতজন তাঁদের পথরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়িটি থামান। একপর্যায়ে তাঁরা সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। এরপর তাঁর কাছ থেকে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ছিনতাইকারীরা আবদুল্লাহপুরের দিকে চলে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় আহত আল আমিনকে পরে সেলিমুজ্জামান, খোরশেদ এবং আশপাশের লোকজনের সহায়তায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত চিকিৎসা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর পেট্রলপাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলায় ছিনতাই হওয়া অর্থ ডিএল পেট্রলপাম্পের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার জানান, ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পেট্রলপাম্পের কর্মীরা প্রতিদিন একই সময়ে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে ব্যাংকে যেতেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়মিত অর্থ পরিবহনের সময়সূচি সম্পর্কে ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই তথ্য পেয়ে থাকতে পারেন বলে তদন্তে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার তারেক আহমেদ বেগ জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডিএল পেট্রলপাম্পের মালিকানা তাসীন আক্তার হকের। তিনি প্রয়াত খুরশীদ জাহান হকের ছেলে। খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের পাশাপাশি একজন কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। ছিনতাইয়ের আগে অর্থ পরিবহনের তথ্য কীভাবে অপরাধীদের কাছে পৌঁছেছিল এবং ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তদন্তে এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনাক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য