খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

হলিউডের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক বক্স অফিসকে রীতিমতো তোলপাড় করে দিয়ে মাত্র ৬ দিনে ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) আয়ের অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে সোনি ও মার্ভেলের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি নতুন চলচ্চিত্র ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। টম হল্যান্ডের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা এই জনপ্রিয় ওয়েব-স্লিংগিং সুপারহিরো আয়ের তুমুল গতিতে পেছনে ফেলে দিয়েছে সাম্প্রতিককালের সব রেকর্ড। চলচ্চিত্র ইতিহাসের দীর্ঘ যাত্রায় এর চেয়ে কম সময়ে মাত্র একটি সিনেমাই শতকোটি ডলারের মুখ দেখতে পেরেছিল। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া মার্ভেল মহাকাব্য ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মাত্র এক সপ্তাহান্তে (ওপেনিং উইকএন্ডে) ১.২ বিলিয়ন ডলার আয় করে এই তালিকার শীর্ষে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
মুক্তির প্রথম চার দিনেই কেবল উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছে সিনেমাটি, যা দেশটির ঘরোয়া বাজারে সবচেয়ে দ্রুত ৪০০ মিলিয়ন ডলার অর্জনের নতুন ইতিহাস গড়েছে। কেবল তা-ই নয়, সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন সোমবারে এককভাবে রেকর্ড ৪৭ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে এই ছবি। ফলে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর ৪০ মিলিয়ন ডলারের আগের রেকর্ড ভেঙে এটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের সোমবারের খেতাব অর্জন করে নিয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বা বৈশ্বিক বাজারেও সমান তাণ্ডব চালিয়ে সিনেমাটি ইতিমধ্যে ৬৪৫.৮ মিলিয়ন ডলার নিজের ঝুলিতে পুরেছে।
টম হল্যান্ডের একক অভিনয়জীবনের চতুর্থ স্পাইডার-ম্যান চলচ্চিত্রটি গত সপ্তাহান্তে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বক্স অফিসের যাবতীয় পূর্বানুমানকে গুঁড়িয়ে দেয়। ছবিটির উদ্বোধনীতে ঘরোয়া বাজারে ৩৬০ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বজুড়ে ৯৩২ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা হয়। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে এটি সর্বকালের সেরা ডমেস্টিক ডেবিউ এবং বিশ্বব্যাপী ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওপেনিং হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সিনেমাটি প্রিভিউ প্রদর্শনী থেকে ৭২ মিলিয়ন ডলার এবং উদ্বোধনী দিনে ১৬৯.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করার জোড়া রেকর্ড গড়েছে। সাধারণ দর্শকদের চমৎকার প্রতিক্রিয়া এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, চলচ্চিত্রটি খুব দ্রুতই ২০০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক ক্লাবে প্রবেশ করবে—যা এ পর্যন্ত সিনেমার ইতিহাসের মাত্র সাতটি চলচ্চিত্রের ঝুড়িতে রয়েছে।
সোনি ও মার্ভেলের এই বিস্ময়কর সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্ভেল স্টুডিওসের সভাপতি ও ছবির প্রযোজক কেভিন ফাইগি। ‘ভারাইটি’ বিনোদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই আশা করিনি যে এন্ডগেমের ঘরোয়া রেকর্ড কেউ কখনো ভাঙতে পারবে। তবে আমাদের মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) ৩৮তম চলচ্চিত্রটি দিয়ে এই রেকর্ড ভেঙে যেতে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও অভিভূত।” এই অভাবনীয় সাফল্য চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া পরবর্তী মেগা ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-এর জন্য অত্যন্ত শুভ বার্তা বয়ে এনেছে বলে মনে করেন তিনি।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ চলতি ২০২৬ সালের চতুর্থ চলচ্চিত্র হিসেবে শতকোটি ডলারের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করল। আন্তর্জাতিক বক্স অফিসের বর্তমান চিত্র ও অন্যান্য ছবির আয় নিচে তুলে ধরা হলো:
চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাস চলাকালেই মহামারির পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চসংখ্যক শতকোটি ডলারের সিনেমা দেখে ফেলল বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্প। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী করোনাকালীন স্থবিরতা শুরুর আগে রেকর্ডসংখ্যক ৯টি চলচ্চিত্র ১০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যবসা করেছিল, যার পর থেকে কোনো একক বছরে তিনটি চলচ্চিত্রের বেশি এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। তবে এই বছরের মে থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত কেবল উত্তর আমেরিকার বাজারেই ৩.৫৭৯ বিলিয়ন ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। বছরের শেষভাগে ‘ডুন ৩’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-এর মতো মেগা বাজেটের চলচ্চিত্রগুলো মুক্তির অপেক্ষায় থাকায় ২০১৯ সালের পর এই প্রথম উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য