খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৭:১৯ পিএম

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩২৭ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুই রোগীর মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং অপরজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৮০০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে মোট ২৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরে এই বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর পরেই রয়েছে বরিশাল বিভাগ। গত একদিনে সেখানে ৬১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দেশের অন্যান্য বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রাজধানীর পরিস্থিতিও উদ্বেগের বাইরে নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৩৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে থাকা ঢাকার হাসপাতালগুলোতে আরও ৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৩০ জন ডেঙ্গু রোগী। তবে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা অব্যাহত থাকায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা। জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আশপাশে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্ষাকালে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।
মন্তব্য