খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৬:৬ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ দল ব্ল্যাকপিংকের অন্যতম সদস্য জেনি কিম সংগীত, ফ্যাশন ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। ২০১৬ সালে অভিষেকের পর থেকে তিনি শুধু দলের সাফল্যের অংশীদারই নন, একক শিল্পী হিসেবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তাঁর কণ্ঠ, মঞ্চ উপস্থিতি এবং ফ্যাশন সচেতনতা তাঁকে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।
জেনি ২০১৬ সালে ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে ব্ল্যাকপিংকের সদস্য হিসেবে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন। দলটির প্রথম সিঙ্গেল অ্যালবাম ‘স্কয়ার ওয়ান’-এর দুটি গান ‘হুইসেল’ ও ‘বুম্বাইয়া’ প্রকাশের পরপরই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এই গানগুলোর সাফল্য ব্ল্যাকপিংককে দ্রুত আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং জেনিও একজন উদীয়মান কে-পপ তারকা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
ব্ল্যাকপিংকে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জেনি। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় শিল্পী জি-ড্রাগনসহ কয়েকজন সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজস্ব সংগীতধারা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয় জেনির প্রথম একক গান ‘সোলো’। গানটি প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং একক শিল্পী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে তিনি প্রকাশ করেন আরেকটি একক গান ‘ইউ অ্যান্ড মি’, যা বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্তদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করে।
নিজের একক ক্যারিয়ারকে আরও স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য ২০২৩ সালের শেষ দিকে জেনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘অড অ্যাটেলিয়ার’। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিজের সংগীত কার্যক্রম ও সৃজনশীল পরিকল্পনা পরিচালনা করছেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে প্রকাশ করেন ‘মান্ত্রা’ গানটি, যা তাঁর নতুন সংগীতযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
২০২৫ সালে জেনির প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘রুবি’ প্রকাশিত হয়। অ্যালবামটি আন্তর্জাতিক সংগীত বাজারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় এবং বিলবোর্ড ২০০ চার্টে সপ্তম স্থানে অভিষেক করে। এই অর্জন একক শিল্পী হিসেবে তাঁর বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।
একক সংগীতের পাশাপাশি ব্ল্যাকপিংকের সঙ্গেও সক্রিয় রয়েছেন জেনি। বিশ্বজুড়ে দলটির কনসার্ট আয়োজন ও নতুন সংগীত প্রকাশের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। ব্ল্যাকপিংকের সদস্য হিসেবে জেনির উপস্থিতি এখনও কোটি ভক্তের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
সংগীতের বাইরেও জেনি ফ্যাশন দুনিয়ার অন্যতম পরিচিত মুখ। বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড শ্যানেলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাঁকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে। তাঁর পোশাক নির্বাচন, ব্যক্তিত্বপূর্ণ উপস্থিতি এবং আধুনিক স্টাইল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
জেনির সাফল্যের গল্প শুধু একজন কে-পপ শিল্পীর উত্থানের গল্প নয়; এটি একজন শিল্পীর নিজের পরিচয় তৈরি, নতুন দিগন্তে এগিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠার উদাহরণ। ব্ল্যাকপিংকের তারকা সদস্য থেকে শুরু করে সফল একক শিল্পী—প্রতিটি পর্যায়েই তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
মন্তব্য