খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১২:৯ এএম

দিনদুপুরে বাড়ির সামনে থেকে বেঁধে রাখা গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলায় তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি করা গরু নিয়ে নদী পার হওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে শফিকুল ইসলাম ওরফে নুর আলম (৫৫) নামের এক চোরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
আটক নুর আলম জয়পুরহাট সদর উপজেলার হানাইল দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, নুর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগে থেকেই একাধিক গরু চুরির মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও তাঁর গৃহপালিত দুটি গরু গোয়ালঘর থেকে বের করে বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় বেঁধে রেখেছিলেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পর হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন, একটি গরু সেখানে নেই। রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবারের লোকজন তখন চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
ঠিক একই সময়ে, পার্শ্ববর্তী আক্কেলপুর উপজেলার পালশা এলাকার চিরি নদী পার হচ্ছিলেন এক অপরিচিত ব্যক্তি। একটি বড় গরু টেনে নিয়ে এভাবে নদী পার হতে দেখে নদীর ঘাটে থাকা স্থানীয় লোকজনের মনে খটকা লাগে। পালশা গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান জানান, ভরদুপুরে অপরিচিত একজন মানুষকে এভাবে গরু নিয়ে নদী পার হতে দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। তাঁরা এগিয়ে গিয়ে ওই ব্যক্তির কাছে গরুর মালিকানার বিষয়ে জানতে চান। বেগতিক দেখে চোর নুর আলম গরুটি নিজের বলে দাবি করেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন।
এরই মধ্যে মহব্বতপুর গ্রাম থেকে গরু চুরির খবরটি চারপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পালশা গ্রামের বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে গরুর মালিক রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে রুহুল আমিন দ্রুত চিরি নদীর ঘাটে ছুটে যান এবং আটক করা গরুটি নিজের বলে নিশ্চিত করেন।
গরু শনাক্ত হওয়ার পরপরই সেখানে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা চোর নুর আলমকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চোরের উপদ্রব থাকায় মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং তাঁরা নুর আলমকে গণধোলাই দিতে শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে চোরাই গরুটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গণপিটুনিতে আহত নুর আলমকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গরু চুরির এই ঘটনায় গরুর মালিক রুহুল আমিন বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত গরুটি আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মন্তব্য